শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২৪
প্রিন্ট করুন printer

চা বাগানের ঝিলে পাখির আবাস

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল


চা বাগানের ঝিলে পাখির আবাস

চারপাশে উঁচু টিলায় টিলায় সবুজ চায়ের বাগান। মধ্যখানে ঝিল। ঝিলের পানিতে ফুটেছে লাল শাপলা। ঝিলের পানিতে করা হয়েছে মাছের চাষ। রয়েছে কচুরিপানাও। টিলা থেকে ঝিলের পাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে সারি সারি চায়ের গাছ। আর চা বাগানে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে নানান প্রজাতির ছায়া বৃক্ষ। এ যেন প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্য। আর এই ঝিলেই স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে নানান জাতের দেশীয় পাখি। আর শীত মৌসুমে এদের সাথে যোগ দেয় পরিযায়ী পাখিরা।

একদিকে চা বাগানের সবুজের সমারোহ, তার সাথে হাজারো পাখির কিচির মিচির ডাকে আরও মনোমুগ্ধ হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা
বাগানের পরিবেশ। শহর থেকে এই বাগানের দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। বাগানের চা কারখানা থেকে আধা কিলোমিটার এগোলেই রাস্তার বাম
পাশে এই ঝিল।

বাগান কর্তৃপক্ষ জানান, মূলত এই ঝিলে কিছু মাছ ছেড়ে রাখা হয়েছিল। মালিক পক্ষের লোকেরা যখন বাগানে আসেন, তখন তারা শখ করে এই ঝিলে বরশি দিয়ে মাছ ধরে থাকেন। কিন্তু গত চার পাঁচ বছর ধরে এই ঝিলে পাখিরা এসে স্থায়ী আবাস গেড়েছে।

এখন সারা বছরই এখানে পাখি দেখা যায়। আর শীত এলে এই পাখির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। সারাদিন পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে নিরব
নির্জন চা বাগানে এক অন্য রকমের আবহের সৃষ্টি হয়। সকালে প্রাতভ্রমণে বের হওয়া বা বাগানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা মনের আনন্দে উপভোগ করেন ঝিলের পানিতে পাখিদের জলকেলি।

সরেজমিনের দেখা যায়, বাগানের ৯, ১০ ও ১১ নং সেকশনের টিলায় সবুজ চায়ের বাগান। তিন টিলার মধ্যখানে প্রায় দশ একর আয়তনের একটি এ ঝিল। ঝিলের অর্ধেক পানিতে ফুটেছে লাল শাপলা। আর বাকী অর্ধেকে কচুরি পানার স্তুপ। এই কচুরিপানায় বসে আছে হাজার হাজার পানকৌড়ী আর সরালী হাঁস। তারা কখনো ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে নীল আকাশে, কখনো বা উড়ে এসে খুঁনসুটি করছে ঝিলের  পানিতে ভেসে বেড়ানো সরালী হাঁসের ছানার সাথে। হাজার পাখির কুঞ্জনে এক মধুময় সুরের আবহ বিরাজ করে পুরো ঝিল এলাকায়।

চা কোম্পানীর রাজঘাট ডিভিশনের জিএম মো. ময়নুল আহসান বলেন, পাখিরা যাতে এখানে নিরাপদে থাকে তার জন্য আমরা এই
ঝিলে লোক লাগিয়ে রেখেছি, যাতে মানুষ এখানে অবাদে বিচরণ করতে না পারে। তবে কেউ যদি এখানে পাখি দেখতে আসে তাহলে আমরা তাদের না করি না। শুধু আমাদের সাথে যোগাযোগ করে আসার জন্য বলি।

চা বাগানের শ্রমিক দিবাকর শীল ও অরুন গোয়ালা বলেন, পাখি দেখার জন্য এখানে অনেক মানুষ আসে। তবে আমরা কাউকে ঝিলে যেতে দেই না। মানুষ পাখির কাছাকাছি আসলে পাখিরা ভয় পায়।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর