Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মে, ২০১৯ ১৭:২৪

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সাড়ে ৯ হাজার বন্দির ইফতার

৩০ টাকার ইফতারে কয়েদিদের স্বস্তি

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

৩০ টাকার ইফতারে কয়েদিদের স্বস্তি
ফাইল ছবি

প্রথমবারের মতো দেয়া হচ্ছে গুড়ের শরবত। আছে রান্না করা ৮০ গ্রাম ছোলা, ১৫০ গ্রাম মুড়ি, একটি বড় জিলাপি, বেগুনি, দুটি পেঁয়াজু ও একটি কলা। আইটেম অনেকগুলো হলেও সবকিছুর জন্য বরাদ্দ ৩০ টাকা! তবে টাকার পরিমাণ কম হলেও এই ৩০ টাকার ইফতারই স্বস্তি দিচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাড়ে ৯ হাজার কয়েদি ও হাজতির। ১০ বছর পর বন্দিদের ইফতারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫ থেকে ৩০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে বন্দিদের মনে স্বস্তির পাশাপাশি এবার থেকে ভালোভাবে ইফতার করতে পারছেন বলে জানান সংশ্নিষ্টরা।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ৯ হাজার ৩৯০ জন হাজতি ও কয়েদি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার বন্দি প্রতিদিন রোজা রাখেন। রোজাদার এসব বন্দিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো কয়েদিদের ইফতার মেন্যুতে রাখা হয়েছে গুড়ের শরবত। সেইসাথে রয়েছে সাত পদের ইফতার মেন্যুও। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার আগেই বন্দিদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে ১০০ শয্যার কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে কয়েদি ও হাজতি বন্দিদের এসব ইফতারের পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে দুধসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। ডিভিশন পাওয়া ভিভিআইপি বন্দিরা পাচ্ছেন উন্নত মানের ইফতার সামগ্রী। সরকারি এসব ইফতার ছাড়াও কারাগারে থাকারা কারা ক্যান্টিন থেকে কিনে ফিরনি, দইসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী কিনে খেতে পারছেন কারাবন্দি রোজাদাররা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাসির আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কারাগারে থাকলেও রোজা রাখেন কারাবন্দিরা। কারাগারে থেকে রোজা রেখে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন তারা। এসব রোজাদার কারাবন্দিদের জন্য এবার সাতপদের আইটেম দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের জন্য ইফতার মেন্যুতে খেজুরের গুড়ের শরবত রাখা হয়েছে। সরকার এবার কারাবন্দিদের ইফতারের বরাদ্দ ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করেছেন। এতে স্বস্তি নিয়ে ইফতার করতে পারছেন কারাবন্দিরা।

কয়েকজন কারাবন্দি ও তাদের স্বজনরা সরেজমিনে বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ইফতার মেন্যুতে শরবতসহ নানা আইটেম রাখা হয়েছে। এতে তৃপ্তি করে ইফতার করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের ইফতারের বরাদ্দ ৩০ টাকা করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে এবারের ইফতার নিয়ে কয়েদিদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও জেল সুপার কামাল উদ্দিনের বিষয়ে ইফতার, টেন্ডার, মেডিক্যাল, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডে রয়েছে চাপা ক্ষোভ ও কষ্ট। এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে বলতেও পারছেন না ভুক্তভোগিরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে কারাগারে বন্দি থাকা প্রত্যেক বন্দির জন্য ১৫ টাকা করে ইফতারের বরাদ্দ করেছিল তৎকালীন সরকার। বিগত ১০ বছর ধরে কারাবন্দিদের ১৫ টাকা হারে ইফতার দেওয়া হতো। কিন্তু এ বছর থেকে এই বরাদ্দ ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকায় উন্নীত করেছে সরকার। এতে তৃপ্তি করে এবার ইফতার করতে পারছেন কারাবন্দিরা।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য