শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৪০

'শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

'শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে'

অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় অনাগ্রহী হওয়ায় এ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারছে না মন্তব্য করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, যারা শুধু বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। এখন আমাদের সে দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য না করে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। আইনটি পাস হওয়ার পর বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মালিকানা বিলুপ্ত করা হয়। যদি ওই আইনটি না হতো তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তক্ষেপ করা যেত না।

উপমন্ত্রী গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্নত বিশ্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যালামনাই থাকে, তারা গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থান ও কর্মজীবনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আপনারা দেশে-বিদেশে ছুটে যাবেন। আপনাদের মধ্যে আদর্শিক চিন্তা-চেতনায় ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে।

সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লা বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দেওয়ার মতো মানসিকতা থাকতে হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর।

তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত শিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগ দিতে হবে। গ্রাজুয়েট হয়ে অন্যের অধীনে আপনি কেন চাকরি করবেন? উদ্যোক্তা হোন, আপনি নিজেই অন্যকে চাকরি দিন। দক্ষ জনশক্তি পারে বেকারত্ব দূর করতে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে না পারলে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ জন্য কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এমন কোনো সেক্টর পাওয়া যাবে না, যেখানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নেই। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কল্যাণে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠেছিল। তিনি চেয়েছিলেন এই অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে রাখতে। এছাড়াও তিনি স্বাস্থ্য খাতেও অনেক অবদান রেখেছেন।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১১২ জনকে ডিগ্রি দেওয়া হয়।  

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর