শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৩৭
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

চসিকে ভোট পড়েছে ২২.৫২ শতাংশ

গোলাম রাব্বানী ও সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে

চসিকে ভোট পড়েছে ২২.৫২ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনে ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯০টি। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৫৩টি।  

নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৩,৬৯,২৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২,৪৮৯ ভোট। 

বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৩৪ মিনিটে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম থেকে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মো. হাসানুজ্জামান।  

মোট ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে বাকি দুটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত রয়েছে।

মেয়র পদ থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আম প্রতীক নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আবুল মনজুর পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৩ ভোট, মোমবাতি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন পেয়েছেন ২ হাজার ১২৬ ভোট, হাতি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে খোকন চৌধুরী পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট, চেয়ার প্রতীক নিয়ে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ পেয়েছেন ১ হাজার ১০৯ ভোট, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম ৪ হাজার ৯৮০ ভোট  পেয়েছেন।

নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন এবং নারী ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন।

ভোট শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাস  করি, আস্থা রাখি। তবে নির্বিঘ্নে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।’ অন্যদিকে দুপুরে এজেন্ট বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপির প্রার্থী। ভোট গ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোনো নির্বাচনই হয়নি। নির্বাচনের নামে হামলা, খুন ও সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচনই যখন হয়নি সেখানে ভোট বর্জন কিংবা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নই আসে না।’ অন্যদিকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. জান্নাতুল ইসলাম।

গতকাল দফায় দফায় সংঘর্ষ-সহিংসতা, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, প্রাণহানি ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ৫টি ইভিএম ও পুলিশ-নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ৩টি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আমবাগান এলাকায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন চলাকালে পাহাড়তলীতে আরও একজনের মৃত্যু হলেও পুলিশ বলছে, এটা পারিবারিক সংঘাতের মৃত্যু। সংঘর্ষের কারণে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী এবং বিএনপি সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে।

এ সিটির নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। তবে মেয়র পদে প্রধান দুই দলের দুই প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাতজন। ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৭২ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এবার নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন এবং নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।

জানা গেছে, ২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দেন ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা। ২০১৫ সালের নির্দলীয় ভোটে একটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হয়। গত বছর ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সব শেষ আবারও ১৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে ভোট নেওয়ার নতুন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

মেয়র প্রার্থীরা : চসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে সাতজন অংশ নেন। এদের মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ)। অন্যদিকে ছোট ৪টি দলের মধ্যে প্রার্থী রয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আবুল মনজুর (আম)। অন্যজন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)।

এবার নগরীর ১৪টি সংরক্ষিত এবং ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ছোট দলগুলোর কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী ছিল না। চসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীসহ ২৩৬ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ছাড়া একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত রয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ ওয়ার্ডে ভোট হবে।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 

 


 


 
  


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর