শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ মে, ২০২১ ১৫:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

‘বাবুলের নির্দেশে মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে মুসা’

অনলাইন ডেস্ক

‘বাবুলের নির্দেশে মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে মুসা’
বাবুল আক্তার
Google News

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি এবং সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক অজানা কথা তুলে ধরেন পান্না। পান্না দাবি করেন, মিতুর হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল তার স্বামীর মোবাইলে ফোন করেন। তাকে শেল্টার দেওয়ার আশ্বাস দেন। বাবুল আক্তারের নির্দেশেই তার স্বামী এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পান্না বলেন, সন্তান, পরিবার ও আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগে কথা বলিনি। আমি বাবুল আক্তারকে ভয় করতাম। বাবুল আক্তারের পরিচিত কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার পর থেকে আমাকে হুমকি দিতেন। আমি জানতাম, মুসা এ ঘটনায় জড়িত; সেজন্য ভয় পেতাম। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? আজ পাঁচ বছর আমার স্বামী নিখোঁজ। তার সন্ধান চাই আমি। মামলার জন্য হলেও তো মুসাকে দরকার। কারণ সে সবকিছু জানে।

পান্না আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। সেখানে সব খোলাসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবুলের ঘনিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে হুমকি দিয়ে একাজ থেকে বিরত রাখেন। তিনি বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। তারপর আমি এ হত্যার বিষয়ে মুসার কাছে কয়েকবার জানতে চেয়েছিলাম। প্রথমে মুসা কিছু বলেনি। পরে একসময় মুসা আমাকে জানায়, বাবুলের নির্দেশে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে। মুসা জানিয়েছিল, বাবুল আক্তার তাকে শেল্টার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

পান্না বলেন, ২০১৩ সাল থেকে মুসা এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স ছিল বলে আমি জেনেছি। মিতুকে হত্যার পর মুসার ফোনেও বাবুল আক্তার কল দিয়েছিলেন। আমি ধরেছিলাম। তখন বাবুল আক্তার জানতে চান, মুসা কোথায়? আমি বলেছিলাম, বাইরে গেছে। তখন বাবুল ফোনে আমাকে বলেছিলেন, মুসাকে সাবধানে থাকতে বলবা। তারপর থেকে আমার সন্দেহ আরো বাড়ে। আমি এ ব্যাপারে কথা বললে আমাকে জঙ্গি বানিয়ে গ্রেফতার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমি প্রচণ্ড ভয়ে থাকতাম।

মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার পিবিআই এর দায়ের করা প্রথম মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণ, এজাহার, আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্তের ফলাফল, বিভিন্ন আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অস্ত্রের ব্যালেস্টিক পরীক্ষা, আসামি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি, মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সিডিআর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাবুল আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি জঙ্গি হামলার কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়েছিলেন।

মাহমুদা খানম মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, বাবুল আক্তারের পরকীয়ার কারণে দাম্পত্য কলহের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত থাকাকালে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কর্মী গায়ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এনিয়ে পারিবারিক কলহের সময় মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন বাবুল।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন বাবুল। এবার তাকে এক নম্বর আসামী করে মামলা করেছেন মিতুর বাবা। তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর