Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৫৬

স্কুলছাত্রকে মেরে বালু চাপা দেয়ার মামলায় দুই আসামি কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক

স্কুলছাত্রকে মেরে বালু চাপা দেয়ার মামলায় দুই আসামি কারাগারে

কুমিল্লায় অপহরণের পর স্কুলছাত্র আলী আব্বাস তৌহিদকে (১৪) হত্যা করে লাশ বালু চাপার মামলায় দুই আসামিকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার দেলী গ্রামের মো. সোলাইমানের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম মবিন ওরফে অপু (১৯) এবং কুমিল্লার রেলওয়ে স্টেশন মার্কেটের হোটেল আজমিরের ম্যানেজার মাজহারুল (৩৮)। তৌহিদের বড় ভাই জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আনোয়ার হোসেন জানান, অপহরণকারী মবিনের বাবা সোলাইমান বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কুমিল্লায় চাকরি করতেন। সেই সূত্রে মবিন পরিবারের সাথে কুমিল্লা কোটবাড়িতে থাকতেন। নিহত তৌহিদের সাথে অপহরণকারী মবিনের পরিচয় ছিল। কুমিল্লা থেকে মবিনের বাবা চট্টগ্রাম বিজিবিতে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার মা মারা যায়। মবিনের বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে। দীর্ঘদিন কুমিল্লায় থাকায় বন্ধু-বান্ধব বেশি থাকায় অপহরণকারী মবিন চাকরি করতে কুমিল্লায় চলে আসে। কুমিল্লার রেলওয়ে স্টেশন এলাকার হোটেল আজমিরের চাকরি নেয় মবিন। হোটেলের ম্যানেজার মাজহারুলের নির্দেশে মবিন তার পূর্ব বন্ধু তৌহিদকে অপহরণের চিন্তুা মাথায় নেয়। 
তিনি বলেন, হোটেল ম্যানেজার মাজহারুল ও মবিন মিলে রবিবার বিকেলে তৌহিদকে বাসা থেকে ডেকে আনে। অপরণের পর তৌহিদের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে তার দুলাভাই ইসমাইল হোসেনের নিকট পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। গভীর রাতে কোটবাড়ি গন্ধমতি বালুর মাঠে তৌহিদকে নিয়ে যায়। তৌহিদ এক পর্যায়ে চিৎকার করলে অপহরণকারীরা তার কোমরের বেল্ট দিয়ে গলা চেপে ধরে। তখন শ্বাসরোধ হয়ে তৌফিকের মৃত্যু হয়। তারপর ওই বালুর মাঠে বালু চাপা দিয়ে অপহরণকারীরা কুমিল্লায় চলে যায়।

উল্লেখ্য, সোমবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি গন্ধমতি বালুর মাঠে চাপা দেওয়া অবস্থায় তৌহিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তৌহিদ কুমিল্লা কোটবাড়ি সালমানপুর মাস্টার বাড়ির আবু মুসার ছেলে। সে কুমিল্লা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। গন্ধমতি বোনের জামাই ইসমাইলের বাড়িতে থেকে পড়া-লেখা করতো তৌহিদ। অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্য পাঁচলক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সোমবার দুপুরে মবিন নামের অপহরণকারী মুক্তিপণের টাকা নিতে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সোমবার রাতে মাজহারুলকে গ্রেফতার করা হয়।

বিডি-প্রতিদিন/১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য