Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৯ ১৮:২৯

চালু হয়নি রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

চালু হয়নি রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তেলবাহী ওয়াগনের ছয়টি বগি তোলা হয়েছে। ফলে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগযোগ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে বন্ধ হয়ে আছে। আরও দুটি ওয়াগন তোলার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। 

এতে আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শহিদুল ইসলাম।

চারঘাটের হলিদাগাছির দীঘলকান্দি এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে সকালের সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিন্টেনডেন্ট আবদুল করিম বলেন, চারঘাটের হলিদাগাছিতে লাইনচ্যুত বগিগুলোর উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে সকালের আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা, সাগরদাঁড়ি, সিল্কসিটি, কপোতাক্ষ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। টিকিট ফেরত নিয়ে যাত্রীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে বুধবার রাতের রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। ঈশ্বরদীগামী কমিউটার ট্রেনও ছেড়ে যেতে পারেনি। এছাড়া ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি নাটোরের আবদুলপুরে এবং বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহীর আড়ানীতে আটকা পড়ে ছিল। এতে পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন আসলেও বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনটি বগি উদ্ধার করা হয়। তবে সকালে আর বৃষ্টি না হওয়ায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চলতে থাকে। 

তিনি আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনার পর ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি আবদুলপুরে আটকা পড়ে। এ কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। কেউ কেউ মাইক্রোবাস ভাড়া করে, কেউ অন্য বাসে উঠে রাজশাহীতে আসেন।

বুধবার রাতে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়। ফলে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। 

রিমকি নামের এক যাত্রী জানান, ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেন। কিন্তু এমন ঘটনার কারণে টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প উপায়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। 

মুনকার আলী নামে আরেক যাত্রী জানান, ২ জুলাই টিকিট করেছিলেন। আজ বাধ্য হয়ে ফেরত দিচ্ছেন। ঢাকা ছাড়া অন্য পথের যাত্রী, যারা রাজশাহী স্টেশন থেকে টিকিট করেছিলেন, তারা টিকিট ফেরত দিয়েছেন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট হলিদাগাছির দীঘলকান্দি ঢালানের কাছে তেলবাহী ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তেলবাহী ওই ট্রেনটি খুলনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনূরার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ট্রেনটি ঈশ্বরদী হয়ে রাজশাহী অভিমুখে যাচ্ছিল। পথে হলিদাগাছিতে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটির মাঝখান থেকে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়। তাই পরে আটটি বগি রেখে সামনের অন্য বগিগুলো নিয়ে তেলবাহী ওই ট্রেনটি বুধবার রাতেই আমনূরা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। 

এদিকে, এ ঘটনার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। এই কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত তিনটার দিকে সরদহ স্টেশনে মালবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য