Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০২:৩৩

বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল

টাকা না দেয়ায় অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছাতে বিলম্ব, প্রসূতির সন্তানের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

টাকা না দেয়ায় অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছাতে 
বিলম্ব, প্রসূতির সন্তানের মৃত্যু

বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়াকে টাকা না দেয়ায় ট্রলি পেতে দেরি হওয়ায় অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছেনোর আগেই এক প্রসূতি নারীর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের নির্দেশের পরও টাকা ছাড়া রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে পৌছে দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে কর্মরত আয়ারা। দেড় ঘণ্টা বিলম্বে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও সিজারিয়ান অপারেশন করে তার গর্ভ থেকে একটি মৃত সন্তান বের করেন চিকিৎসকরা। 

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এই অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে রোগীর স্বজন এবং ওয়ার্ডে কর্মরত আয়াদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে অভিযুক্ত আয়া হালিমা বেগমকে আটক করে পুলিশ। 
 
হালিমা বেগম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বরাকোটা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে কর্মরত ছিলো। মৃত নবজাতকের মা বিউটি বেগম (২৫) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মধ্যপ কামদেবপুর গ্রামের জনৈক মো. সোহেলের স্ত্রী।
 
অস্ত্রপচার শেষে বিউটি বেগমকে হাসপাতালের পর্যবেক্ষন কক্ষে রাখা হয়েছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিউটি বেগমের স্বজন শারমিন আক্তার ও মো. রাশেদ জানান, প্রসব বেদনা শুরু হলে বিউটি বেগমকে বুধবার সকাল ৯টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের প্রসুতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তার অস্ত্রপচার না করে নার্সদের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের অপেক্ষা করেন। কিন্তু এতেও কাজ না হওয়ায় সকাল ১১টার দিকে রোগীকে সিজারিয়ানের জন্য দ্রুত পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক। 

স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের নির্দেশ মতো রোগীকে ট্রলিতে করে অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রসূতি ওয়ার্ডে কর্মরত আয়া হালিমা বেগম, সন্ধ্যা রাণী মালী ও পপি আক্তারকে অনুরোধ করেন। এ সময় রোগীকে পৌছে দেয়ার জন্য তারা বকসিস দাবী করে। রোগীর সাথে পুরুষ লোক না থাকায় পরে টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয় স্বজনরা। কিন্তু আগে টাকা না পেয়ে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে দেবে না বলে বেঁকে বসেন আয়ারা। 

শারমিন বলেন, আয়াদের অসহযোগিতার বিষয়টি গাইনী বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানান তারা। চিকিৎসক স্বজনদের মাধ্যমে রোগীকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে দিতে আয়াদের নির্দেশ দেন। কিন্তু চিকিৎসকের নির্দেশও কাজে আসেনি। সবশেষ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সন্ধ্যা রাণী মালী নামে এক আয়াকে ১৫০ টাকা দেয়ার পরে তিনি রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকরা জানান, প্রসূতির গর্ভের সন্তান স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিলো। এ কারনে প্রাথমিকভাবে তার স্বাভাবিক ডেলিভারীর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তাকে সিয়ারিয়ান অপারেশন করা হয়। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সিজারিয়ান অপারেশনের আগেই তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। এ জন্য আয়া-বুয়াদেরকেই দায়ী করেন চিকিৎসকরা। 

এদিকে মৃত সন্তান ভূমিস্ট হওয়ার খবরে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা অভিযুক্ত আয়াদের সাথে হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আয়া হালিমা বেগমকে আটক করে। এ সময় অপর  দুই আয়া সন্ধ্যা রাণী মালী ও পপি আক্তার পালিয়ে যায়।

কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মৃত বাচ্চার স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আয়া হালিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোগীর স্বজনরা মামলা করবে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাশেদুল ইসলাম জানান, যে তিনজন আয়া রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং অসহযোগিতা করেছে তারা কেউ সরকারি কর্মচারী নয়। এদের মধ্যে দুই জন চুক্তি ভিত্তিক এবং আটক হওয়া হালিমা বেগম আয়া বহিরাগত। সে অবৈধভাবে প্রসূতী ওয়ার্ডে কাজ করে আসছিলো।

শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, অভিযুক্ত হালিমা বেগমকে তিনিই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। রোগীর স্বজনদের মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই তিনজনকে মেডিকেলে কোন কাজে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ট্রলি নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেউ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পরিচালক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য