শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০২০ ১৩:৫৬
আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০২০ ১৫:৫২

কোয়ারেন্টাইন থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেলফি তুলে পাঠাতে হবে!

অনলাইন ডেস্ক

কোয়ারেন্টাইন থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেলফি তুলে পাঠাতে হবে!
ফাইল ছবি

সেলফি তুলতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। তবে সেই সেলফি যদি প্রমাণ হয় হোম কোয়ারেন্টাইনের তাহলে? হ্যাঁ, কর্ণাটক সরকার এমনই নিয়ম তৈরি করলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের জন্য। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি ঘণ্টায় সেলফি তুলে পাঠাতে হবে কর্ণাটক রাজ্য সরকারকে। ভারতের কর্ণাটক সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত এটি। বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরা যাতে কেউ মিথ্যা বলতে না পারেন তাই এই সিদ্ধান্ত। 

ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে কর্ণাটকেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। তাই সোমবার থেকে এই নির্দেশিকা জারি করল কর্ণাটক রাজ্য সরকার।

কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ কে সুধাকরের জানান, যারা হোম কোয়ারেন্টাইনের রয়েছেন তাদের সকলকে নিজের মোবাইল থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেলফি তুলে পাঠাতে হবে রাজ্য সরকারের একটি সাইটে। এই নির্দেশিকার অমান্য করলে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের কাছে বা তাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট একটি দল। তারা তখন ওই ব্যক্তিকে সরকারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাবে।

কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হোম কোয়ারেন্টাইন নাম করে যাতে কেউ বাইরে ঘুরতে না পারে বা সংক্রমণ ছড়াতে না পারে তাই পদক্ষেপ।

প্রসঙ্গত, দিল্লির একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলিগ জামাত থেকে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ওই তাবলিগে যোগ দিয়ে বহু মানুষ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ওই মসজিদটি সিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনায় দিল্লির ওই মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে পুলিশকে মামলা (এফআইআর) করার নির্দেশ দিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। পাশাপাশি দিল্লির পশ্চিম নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মসজিদ থেকে কমপক্ষে ৮৫০ জনকে অন্য একটি জায়গায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ন্যুনতম ২০০ জনের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কিনা তার জন্য পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪ জনের শরীরে ওই সংক্রমণ হয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে। সংক্রমিতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছে দিল্লি সরকার।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৫১জন, মারা গেছে ৩২জন।

বিডি প্রতিদিন/জামশেদ রনি


আপনার মন্তব্য