অপহরণের তিন বছরেও খোঁজ মেলেনি রাজধানীর রামপুরা এলাকার চান্দি বেগমের (৫০)। থানা পুলিশ, আদালত ও আত্মীয়-স্বজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার সন্তান লিপি আক্তার অহনা। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন অহনা।
রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মায়ের খোঁজ পেতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে অহনা জানান, ২০২০ সালের ১৯ জুলাই সকাল থেকে নিখোঁজ হন তার মা চান্দি বেগম। বাসার সিসি ক্যামেরায় মাকে এক নারীর সঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি ও আদালতে মামলা করলেও কোনো ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামি ধরার নামে নানাভাবে তাকেই নাজেহাল করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ওই বাড়ির হুসনেয়ারা নামের এক গৃহকর্মীকে আটক করলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে অপহরণের বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। তবে অহনার অভিযোগ, পুলিশ তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ওই গৃহকর্মীকে আদালতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু তাকে আদালতে না পাঠিয়ে গোপনে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অনন্যপায় হয়ে অহনা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতে মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশের পর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। সেখানে বারবার তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু মায়ের খোঁজ না পাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন অহনা। এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশও চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয় আদালতে। সেখানে তার মায়ের অপহরণকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
অহনা আরও জানান, ১৫ বছর আগে পারিবারিক এক ঝামেলার বিরোধে অহনা ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্থানীয় ঝালকাঠীর মধ্য চাদকাঠীর ওয়ার্ড কমিশনার আয়েশা ও তার ছেলে শাহীন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবেও মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অহনা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে অহনার মামাতো ভাই শাহীন ও তার লোকজন চড়াও হয় অহনার উপর। তাকে কোনো সম্পত্তি দেওয়া হবে না এবং তাকে ওই এলাকা ছাড়ার পায়তারা করে তারা। এছাড়া অহনার নিজের নামের কেনা জায়গাও তারা দখল করে নেয়। বর্তমানে নিজ বাড়ি ছেড়ে রাজধানীর ভাড়া বাড়িতে থাকছেন অহনার পরিবার। তার মায়ের সন্ধান পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অপহৃত মায়ের সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘোরা দুই সন্তানের জননী লিপি আক্তার অহনা।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত/ক্র্যাব