Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৫৩
আপডেট : ৬ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:২৫

ঐতিহ্য ধরে রেখেছে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী আদর্শ পঞ্চায়েত

শামছুল হক রাসেল

ঐতিহ্য ধরে রেখেছে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী আদর্শ পঞ্চায়েত
পঞ্চায়েতের মাঠে জমাকৃত পশুর মাংস সমবণ্টনে ভাগ করা হচ্ছ। ছবিটি গত কোরবানির ঈদে তোলা।

পঞ্চায়েত। সামাজিক ব্যবস্থার এক অন্যতম ধারক ও বাহকের সমষ্টি। পঞ্চায়েত প্রথা বাংলার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। পঞ্চায়েত বলতে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত পর্ষদকে বোঝায়। প্রাচীনকালে গ্রাম-সংসদ অথবা পঞ্চায়েত রাজা কর্তৃক মনোনীত বা কোন গ্রামের জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হতো। গ্রাম প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পঞ্চায়েতগুলিতে সকল শ্রেণি ও বর্ণের লোকদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। কালের পরিক্রমায় এখনো কিছু পঞ্চায়েত বা সেই সব সামাজিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। যদিও আগের মতো সেইসব কার্যক্রম এখন তার তাদের মাধ্যমে হয় না। গ্রাম্য পটভূমিতে এখনো পঞ্চায়েতের স্রোতধারা মোটামুটি বহমান। 

রাজধানীতেও কয়েকটি পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এখনো টিকে রয়েছে, যেগুলোর বয়স প্রায় ৪/৫ যুগের ওপর। বিশেষ করে রাজধানীর লালবাগ, বংশাল, গেন্ডারিয়া এবং যাত্রাবাড়িতে এখনো কয়েকটি পঞ্চায়েত সিস্টেম বা পদ্ধতি রয়েছে। এমনই একটি পঞ্চায়েত রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির আদর্শ পঞ্চায়েত। যাত্রাবাড়িতে মোট ৫টি পঞ্চায়েত রয়েছে এর মধ্যে এই আদর্শ পঞ্চায়েত একটি। সম্প্রতি এ পঞ্চায়েতের কমিটি-২০১৯ গঠিত হয়েছে। হাজী নজরুল ইসলামকে প্রধান সরদার করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয়েছে। অন্যন্য সরদার হলেন- মুজাফ্ফর হোসেন, মুসলেহউদ্দীন আহম্মেদ, ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, মো. আমির হোসেন, হাজী আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান ভাসানী, সোহরাব হোসেন, হাজী নাজির উদ্দীন আহম্মেদ, হাফেজ মাও: মো. তাজউদ্দীন, হাজী মো. নুরুল হক, মনির হোসেন, মো. আব্বাছ আলী, আবদুল হক, আনোয়ার হোসেন স্বাধীন, হাজী মো. মাকসুদ, এডভোকেট আফানুর আল মামুন, হাজী আবদুল বাসেদ, হাজী আবদুল গণি, হাজী এজাজুর রহমান, হাজী সাইজুদ্দীন আহাম্মেদ। 

সূচনালগ্ন থেকেই এ পঞ্চায়েত বিভিন্ন দাতব্য ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। সবচেয়ে আলোচিত যে উদ্যোগটি গত কয়েকযুগ ধরে তারা করে আসছে তা হল পঞ্চায়েতের মাধ্যমে কোরবানির মাংস বণ্টন। তাহলে একটু বিস্তারিত খুলেই বলা যাক।
এই পঞ্চায়েতের সদস্য বা 'ঘর' সংখ্যা হল প্রায় ২২০। প্রতি কোরবানির ঈদে এদের মধ্যে গড়ে ৭০/৮০টি পরিবার কোরবানি দিয়ে থাকে। আর বাকি দেড়শ পরিবার কোনো না কোনো কারণে কোরবানি দিতে পারে না। ঈদের আনন্দে যেন ভাটা না পড়ে তাই তাদেরকেও পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমবণ্টন করে কোরবানির মাংস দেয়া হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কোরবানি ঈদে এ পঞ্চায়েতে প্রায় ৬০টি পরিবার পশু কোরবানি দিয়েছে। তারা তাদের জবাইকৃত পশুর অর্ধেক পঞ্চায়েতের মাঠে দিয়ে যান। আর বাকি অর্ধেক তাদের নিজেদের। এছাড়া সে জবাইকৃত পশুর চামড়াও পঞ্চায়েতে জমা দেন। এভাবে ৬০টি পরিবারের অর্ধাংশ করে মাংস জমা হওয়ার পর নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে তা কেটে ভাগ করা হয়। অর্থ্যাৎ গোশত দেয় ৬০টি পরিবার। কিন্তু ভাগ হচ্ছে পঞ্চায়েতের ২২০টি পরিবারের মধ্যে। আরেকটি বড় ভাগ দেয়া হয় গরীব ও দুস্থদের মাঝে। অর্থ্যাৎ যিনি কোরবানি দিয়েছেন তিনিও মাংস পান এবং যিনি কোরবানি দেননি তিনিও মাংস পান।

আর পঞ্চায়েতে জবাইকৃত পশুর চামড়াগুলো মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়া হয়। আর চামড়া বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৫০ ভাগ প্রত্যাবর্তন করে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া পঞ্চায়েতের সদস্য হতে হলে তিনটি পদ্ধতিতে তারা প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন করি। যিনি অত্র এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন, বৈবাহিক সূত্রে অথবা যিনি এখানে জায়গা জমি কিনে বাড়িঘর করেছেন। প্রাথমিক যাছাই বাছাই শেষে তাদের পঞ্চায়েত সর্দাররা সিদ্ধান্ত নেন। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য