শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৪:০৭
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৪:৩৩

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির চূড়ায় সেলুনগুলো

শামীম আহমেদ

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির চূড়ায় সেলুনগুলো

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আতঙ্কিত বিভিন্ন মহল। শীতে ভাইরাসটির প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঝুঁকির শীর্ষে থাকা সেলুনগুলোয় মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। গ্রাহক ও নরসুন্দর কেউই পরছেন না মাস্ক। জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না ক্ষুর, কাঁচি, চিরুনি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। সেলুনে প্রবেশের সময়ও রাখা হচ্ছে না জীবাণুমুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা।

গতকাল সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সেলুনগুলোতে দেখা গেছে, ছুটির দিন হওয়ায় প্রতিটি সেলুনেই উপচে পড়া ভিড়। আসন ফাঁকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে বসছেন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা আরেকজন। গ্রাহকদের অধিকাংশেরই মুখে নেই মাস্ক। নরসুন্দররাও পরছেন না মাস্ক। একজন গ্রাহককে বিদায় দেওয়ার পর ব্লেড বদলালেও পরিষ্কার করা হচ্ছে না ক্ষুর, কাঁচি, চিরুনি। একই তোয়ালে দিয়ে মোছা হচ্ছে সব গ্রাহকের মুখ, মাথা, ঘাড়। চুল-দাঁড়ি কাটার সময় মাস্ক ছাড়াই নরসুন্দর ও গ্রাহকের নাক-মুখের দূরত্ব কখনো কখনো নেমে আসছে ছয় ইঞ্চির নিচে। স্যানিটাইজার বা কোনো ধরনের জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি অধিকাংশ সেলুনে। সেভ ও মাথা ম্যাসাজের পর সাবান দিয়ে হাত না ধুয়েই অন্য গ্রাহকের চুল-দাঁড়ি কাটতে দেখা গেছে সেলুনগুলোতে। রাজধানীর বাইরে অন্যান্য জেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন আমাদের সংবাদকর্মীরা।

এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একই ক্ষুর, ব্লেড, কাঁচি, অ্যাপ্রোন এবং তোয়ালে অনেকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে শুধু কভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকিই নয়, এইডস, হেপাটাইটিসসহ নানা সংক্রামক রোগ হতে পারে। দাড়ি কাটতে গেলে গ্রাহককে মাস্ক খুলতেই হয়। এক্ষেত্রে নরসুন্দর মাস্ক না পরলে তিনি নিজেও আক্রান্ত হতে পারেন। নরসুন্দর বা পাশের কোনো গ্রাহক আক্রান্ত থাকলে তার থেকে অপর গ্রাহক আক্রান্ত হতে পারেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বা সেলুনের সরঞ্জামগুলো জীবাণুমুক্ত না করলে অসংখ্য মানুষ সেলুন থেকে সংক্রমিত হতে পারে। যেসব সেলুনে দরজা-জানালা বন্ধ থাকে সেগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ভাইরাসটির প্রকোপ কিছুটা কম। এতে খুশি হবার কারণ নেই। যে কোনো সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন গরম। তারপরও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। সবার জন্য ভ্যাকসিন পেতে এক-দেড় বছরও লেগে যেতে পারে। এখনো শতভাগ কার্যকর ভ্যাকসিনের ঘোষণা কেউ দিতে পারেনি। তাই যতদিন ভাইরাসটির অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন স্বাস্থ্যবিধি, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইনের বিকল্প নেই।

সারা দেশে সেলুনের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে নরসুন্দরের সংখ্যা সাত-আট লাখ। এর মধ্যে ঢাকায় লক্ষাধিক সেলুনকর্মী আছেন। প্রতিজন কর্মী দৈনিক পাঁচজনের কাজ করলেও সারা দেশে ৩৫-৪০ লাখ মানুষ প্রতিদিন নরসুন্দরের সংস্পর্শে যাচ্ছেন। সেলুনগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করলে এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়ছেন সাত-আট লাখ নরসুন্দরও। ঝুঁকিতে পড়ছেন ওই পরিবারগুলোও।

এদিকে করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল রাজধানীসহ দেশের পাড়া মহল্লার সেলুনগুলো। কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েন লাখ লাখ নরসুন্দর। জুন মাস থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেলুনগুলো খুলতে শুরু করে। গ্রাহকদেরও অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে সেলুনে যেতে যেখা যায়। কিছুদিন এই ধারা অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ সেলুনে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। সচেতন গ্রাহকরা বলছেন, ‘চুল কাটাতে সেলুনে যাবার বিকল্প নেই। আমরা মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও সেলুনগুলোতে এসবের বালাই নেই। তাই আতঙ্ক নিয়েই কাজ করিয়ে চলে আসি। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়ন দরকার।’


আপনার মন্তব্য