শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:১২
আপডেট : ৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৬
প্রিন্ট করুন printer

সচিবালয়ের চারপাশে কত জঞ্জাল!

সচিবালয়ে আসেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও উন্নয়নকর্মীরা। সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৫টিই সচিবালয়ে। অথচ সচিবালয়ের চারদিকে মলমূত্র, আবর্জনায় পথচারীদের চলাই দায়। রাস্তায় রাখা সারি সারি গাড়ি। এটা যেন অঘোষিত পার্কিং

জয়শ্রী ভাদুড়ী

সচিবালয়ের চারপাশে কত জঞ্জাল!
এভাবেই সচিবালয়ের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা ও জঞ্জাল। শুধু তাই নয় পথচারীরা প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করছেন সচিবালয়ের দেয়ালে ছবি : জয়ীতা রায়

দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকর করার আদেশ-নির্দেশ এখান থেকে জারি হয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চারপাশের সড়ক ও ফুটপাথ দিয়ে হাঁটাচলা করার অবস্থা নেই। ময়লার স্তূপ, জঞ্জাল, খোলা প্রসাবখানা, মলের দুর্গন্ধে ওই সড়কগুলোতে নাকে রুমাল চেপে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে পথচারীদের।

দক্ষিণ পাশের সড়ক ও ফুটপাথ কিছুটা ভালো হলেও পরিচ্ছন্ন বলার সুযোগ নেই। ধুলা-ময়লা, আবর্জনা এমনকি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছ ও লতাগুল্মের পরিচর্যাও করা হয় না। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটির চারপাশের আবর্জনা পরিবেশ নষ্ট করছে। দেশের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর বাতাস ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়। অথচ সচিবালয়ের চারপাশের এই জঞ্জাল সেসব নির্দেশনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রাজধানীর আবদুল গণি রোড ও তোপখানা রোডের মাঝে অবস্থিত সচিবালয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা হয়। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম এই স্থাপনায় প্রায় সব মন্ত্রীর অফিস। আছে প্রধানমন্ত্রীর অফিসও।

এ ছাড়া প্রতিদিন সচিবালয়ে আসেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও উন্নয়নকর্মীরা। সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৫টিই সচিবালয়ে। দক্ষিণমুখী সচিবালয়ের সামনের অংশটি তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন। বাকি তিন দিকে দৈন্যদশা চোখে পড়ে।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সচিবালয়ের উত্তর-পশ্চিম কোনার (জাতীয় প্রেস ক্লাবের পূর্ব পাশে) দেয়াল ঘেঁষে পথচারীরা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করে। ওই দেয়ালের বেশ কয়েক জায়গায় সাদা কাগজে লেখা আছে ‘এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ’। এই সতর্কবাণীটি কারা টানিয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। পাশেই পচা ভাত, সবজি, পলিথিন স্তূপ করে রাখা। নোংরা পানিতে রাস্তা সয়লাব। ফুটপাথ গড়িয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। লাফিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পথচারীদের। নোংরা পানি মাড়িয়ে সচিবালয়ে ঢুকছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাস্তা যেন অঘোষিত পার্কিং এরিয়া। পুরো রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাড়ি। মানুষের হেঁটে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই

এরপর মোড় ঘুরে সচিবালয়ের উত্তর-পূর্ব পাশে গিয়ে দেখা যায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছেন, ময়লা ফেলেছেন অনেকে। উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে পূর্ব দিকে একটি নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে। এখানে যেন কেউ নোংরা করতে না পারে তাই ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিটি কাছে থাকার কারণে দিনের বেলায় কেউ নোংরা ফেলে না। এরপর নজর গেল সচিবালয়ের পূর্ব পাশে (মুক্তাঙ্গনের বিপরীত পাশে)। এই পাশের এক কোনায় সোনালী ব্যাংক, আরেক কোনায় নিরাপত্তা চৌকি। মাঝে সংবাদপত্রের স্টল এবং আরেকটি নিরাপত্তা চৌকি আছে। সোনালী ব্যাংক ও সংবাদপত্র চৌকির মাঝের জায়গাতে রয়েছে আরেকটি প্রস্রাবখানা। এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উৎকট গন্ধ নাকে আসে। রাতের বেলায় মলত্যাগ করে রাখা হয়েছে। কুকুর এসব নোংরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখায় রাস্তা দিয়ে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। সংবাদপত্র স্টলের পাশেই সচিবালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতীয় নিরাপত্তা চৌকি। পায়খানা-প্রস্রাবের গন্ধের কারণে এখানে নিরাপত্তারক্ষীরা বসতে পারেন না, তাই এটি খালি পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য বলেন, ‘এদিকে পথচারীরা মাস্ক পরে, নাকে রুমাল দিয়ে যাতায়াত করে। আমাদের সারা দিন গন্ধের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ জায়গা থাকার কথা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন। অথচ দেয়াল ঘেঁষে পায়খানা, প্রস্রাব করা হচ্ছে। আবর্জনা, ময়লায় সয়লাব পুরো এলাকা।’ সচিবালয়ের দক্ষিণ পাশটি পরিষ্কার থাকলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা থাকে। সচিবালয়ের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগর বিশ্লেষক ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সরকারের পলিসি তৈরির কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ প্রতিদিন এখানে আসেন। নিয়মিত তদারকি ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ময়লা ফেললে জরিমানার ব্যবস্থাও করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:৪১
প্রিন্ট করুন printer

সাভারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নাজমুল হুদা, সাভার

সাভারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সাভার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। 

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি- মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলাধীন সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:৫০
প্রিন্ট করুন printer

ডেমরায় নারীর লাশ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

ডেমরায় নারীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ডেমরায় একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আয়শা আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে নিহতের স্বামী তাকে হত্যা করে পালিয়েছেন।

গতকাল রবিবার বিকেলে খবর পেয়ে ডেমরা থানাধীন সরুলিয়ার পশ্চিম টেংড়া এলাকার ৫ তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আয়শা ডেমরার একটি তার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তার স্বামী জোনায়েদ একজন গাড়িচালক।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই নারীর স্বামী পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি প্রতিবেশীদের বরাতে আরও বলেন, ডেমরায় মৃত হাজি সিরাজ মিয়ার বাসায় তিন বছরের সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:০৫
প্রিন্ট করুন printer

ধামরাইয়ের সাংবাদিক হত্যার মামলার আসামি রিমান্ডে

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ধামরাইয়ের সাংবাদিক হত্যার মামলার আসামি রিমান্ডে

ঢাকার ধামরাইয়ে সাংবাদিক জুলহাস হত্যার অন্যতম আসামি আনিসুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ গতকাল রবিবার তাকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, ঢাকার ধামরাই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও একটি বেসরকারি টিভির সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পলাতক থাকার পর কৌশলে আনিসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর এই হত্যার আসল কারণ জানা যাবে। 

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

তিন স্ত্রী শাশুড়ি শালা ভায়রা মিলে ইয়াবা সিন্ডিকেট

আলী আজম

তিন স্ত্রী শাশুড়ি শালা ভায়রা মিলে ইয়াবা সিন্ডিকেট
ফাইল ছবি

রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দা সাইয়িদুল। সাদা রঙের একটি গাড়িতে চলাফেরা করেন। উত্তরা ছাড়াও গাজীপুরের টঙ্গী ও নরসিংদীতে রয়েছে তার আরও দুটি বাসা। রয়েছে তিনটি বউ। প্রথম বউ হালিমা খাতুন থাকেন কক্সবাজার। দ্বিতীয় বউ তানজিলা আক্তার মোমেনা টঙ্গীতে। আরেক বউ আবিদা সুলতানা একেক সময় থাকেন একেক জায়গায়। 

সাইয়িদুলের পৃথক বাসা ও একাধিক স্ত্রীর মূলে রয়েছে প্রাণঘাতী ইয়াবা ব্যবসার কৌশল। বাসাগুলোকে ইয়াবা চালানের স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। ইয়াবা সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন তার তিন স্ত্রী। শুধু তিন স্ত্রীই নন, ভয়ংকর এ নেটওয়ার্কে যুক্ত সাইয়িদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোমেনার মা হাফিজা খাতুন, খালা মারুফা খাতুন, বোন মর্জিনা খাতুন, মামাতো বোন অদিতির স্বামী খোরশেদ আলম টুটুল।

রাজধানীর মতিঝিলে এজিবি কলোনি এলাকা থেকে সাইয়িদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোমেনাকে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার তিন সহযোগী মো. দুলাল, খোরশেদ আলম টুটুল (মোমেনার মামাতো বোনের স্বামী) ও আরিফসহ তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মোমেনার বোন মর্জিনা খাতুনকে গ্রেফতারের পর সাইয়িদুলের এ চক্রের সন্ধান পায় ডিবি। সে ঘটনায়ও পল্টন থানায় একটি মামলা হয়।

ডিবি সূত্র জানান, এ চক্রের মূল ডিলার কক্সবাজারের উখিয়ার ইসমাইল হোসেন। মিয়ানমার থেকে সরাসরি তার কাছে ইয়াবা আসে। পলাতক সাইয়িদুলের অর্ডার অনুযায়ী ইসমাইলের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেন কক্সবাজারে থাকা স্ত্রী হালিমা খাতুন। ইসমাইলের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করলেও কোনো টাকা নিজ হাতে পরিশোধ করেন না হালিমা। চালান নিয়ে আসার পরদিন টাকা পরিশোধ করতে যেতেন মোমেনার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আরিফ। কক্সবাজারের বাসায় চালান আসার পরই সপ্তাহে ২০ হাজার পিস করে পৌঁছে দেওয়া হতো মোমেনা ও আবিদা সুলাতানাকে। ইয়াবা সব খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে ছড়িয়ে দিতে দুটি জোনে ভাগ করে দেন সাইয়িদুল। একটি ঢাকা জোন, আরেকটি কুমিল্লা জোন। ঢাকা জোনের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব পালন করতেন মোমেনা। তার কাছে আসা ইয়াবা ১ হাজার পিস করে ভাগ করে মা, খালা, বোন ও ফুফাতো বোনের স্বামীর সহযোগিতায় পাঠিয়ে দিতেন বিক্রেতা এবং ভাড়া করা এজেন্টদের কাছে। ফেনী ও কুমিল্লা জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা জোনের দায়িত্ব ছিল আবিদার ওপর। তিনিও মোমেনার মতো ১ হাজার পিস করে পাঠিয়ে দিতেন বিক্রেতা ও এজেন্টদের কাছে। ওই ১ হাজার পিসের চালানগুলো আবার ভাগ হয়ে ছড়িয়ে যায় সারা দেশে।

এ বিষয়ে ডিবির মতিঝিল বিভাগের এসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১২ ডিসেম্বর মর্জিনা খাতুনকে গ্রেফতারের পর এ চক্রের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। আসামিরা ধূর্ত হওয়ায় কোনোভাবেই তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মতিঝিল থেকে তিন সহযোগীসহ মোমেনাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে সাইয়িদুলকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তিনি গা ঢাকা দেন। পরে উত্তরার আশকোনায় অভিযান চালিয়ে মোমেনার মা হাফিজা খাতুনের বাসার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে কোনো ইয়াবা পাওয়া না গেলেও আলামত হিসেবে জিপার ও ফয়েল পেপার পাওয়া গেছে। পুরো চক্রটিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৫:২৫
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

পি কে হালদারের বান্ধবী কে এই অবন্তিকা?

অনলাইন ডেস্ক

পি কে হালদারের বান্ধবী কে এই অবন্তিকা?
অবন্তিকা বড়াল

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিদেশে পলাতক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে টাকা

পাচারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। এর আগে গতকাল দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে পি কে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকাকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, পি কে হালদারের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলার তদন্তে অবন্তিকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এদিকে, অবন্তিকাকে গ্রেফতারের পর থেকে তাকে নিয়ে নানা কৌতূহল। পি কে হালদারের সঙ্গে কি তার সম্পর্ক। কে এই অবন্তিকা? গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর সূত্রে জানা গেছে, অবন্তিকা বড়াল পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। পি কে হালদারের কাছ থেকে তিনি অনেক সুবিধা নিয়েছেন। একইভাবে নিজের অবৈধ সম্পদ আড়াল করেছেন এই অবন্তিকার মাধ্যমে। পিকে হালদারের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে। অবন্তিকা বড়ালের বাড়িও পিরোজপুরে। এলাকার মেয়ে হিসেবে পি কে হালদারের সঙ্গে তার পরিচয়। এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা হয়। 

তবে গত বুধবার দুদক থেকে আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবন্তিকা বলেন, আমাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানি না। অবৈধ সম্পদ আছে কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে অবন্তিকা বলেন, এটা দুদক জানে, আমি বলতে পারব না। 

এর আগে, অবন্তিকাকে গ্রেফতারের পর প্রথমে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন। পরে তাকে জজ আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিদেশে পলাতক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার ৬২ সহযোগীর মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত পি কে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় এ ৬২ জনের নাম পেয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। দুদক সচিব বলেন, আসলে পি কে হালদারের বিষয়টি এখন অনেক বড়। দেখা যাচ্ছে তার বিভিন্নজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। আমরা ইতিমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। মোটামুটি ৬২ ব্যক্তির সঙ্গে তার লিঙ্ক বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। যার মধ্যে একজন অবন্তিকা বড়াল।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর