শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৩

নিরাপত্তা সংকটে রুয়েট

হল ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা

মর্তুজা নুর, রাবি

Google News

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) নিরাপত্তা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভয়ে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী হল ছাড়া শুরু করেছেন। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রুয়েটে একের পর এক ঘটে চলছে ভয়ঙ্কর ও আলোচিত সব ঘটনা। ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, মন্দিরের তালা ভেঙে জিনিসপত্র চুরি, আর খুনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা সংকটে ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।  জানা গেছে, ২০১১ সালে রুয়েটের ক্যাফেটারিয়ার সামনে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল আজিজকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলেও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তারা এখন ক্যাম্পাসে বেপরোয়া। এদিকে রাত হলেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে রুয়েট। ক্যাম্পাসে নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। সব সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য লেগেই থাকছে। খেলার মাঠগুলোও রয়েছে বহিরাগতদের দখলে। ক্যাম্পাসে নেই কোনো পুলিশি নিরাপত্তাও। 

রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে রুয়েটের বাস চালক আবদুস সালামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে খুনিরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের আমলে ক্যাম্পাসের হলগুলোতে বেশ কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চ মাসে শহীদ জিয়া হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ৩০ জন ছাত্র গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের সময়ে কয়েকটি হলে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সাধারণ ছাত্রদের শতাধিক ল্যাপটপ ছাড়াও মোবাইল ফোন, নোটপ্যাড, আইপ্যাড ও নগদ অর্থ লুটপাট করা হয়। পুরো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভিডিও ফুটেজ থাকার পরেও উপাচার্য দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমন কি তদন্ত কমিটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করলেও উপাচার্য তা বাস্তবায়ন করেননি। ছাত্রছাত্রীরা জানান, বর্তমান উপচার্যের সময়ে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার কারণে রুয়েট অনির্ধারিতভাবে বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। এর ফলে এখানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেশনজট মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাধ্য হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন দলে দলে আবাসিক হল ছেড়ে ছাত্রাবাসগুলোতে ঠাঁই নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়াতে আমি পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি। অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করা হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর