Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৫০

ভয়ঙ্কর মোটরবাইকাররা

নিজামুল হক বিপুল

ভয়ঙ্কর মোটরবাইকাররা

অদক্ষ ও অপেশাদার মোটরবাইকারদের কারণে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ঢাকার রাস্তা। বাইকাররা প্রতিদিনই নিজেদের দখলে নিচ্ছেন রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। প্রতিদিন রাজধানীর রাস্তায় নামছে নতুন মোটরসাইকেল। চলছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ‘পাঠাও’, ‘উবার’সহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের মাধ্যমে। এ মোটরবাইকাররাই রাস্তার একটা বড় অংশ দখল করে রাখছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, তারা বেশি আয়ের লক্ষ্যে একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাইক চালাতে গিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়ছেন এবং দুর্ঘটনার অনুঘটক হিসেবেও কাজ করছেন। নগরীর রাস্তাগুলোতে যানজট তৈরিতেও রাখছেন ভূমিকা। বাইকের কারণে কমে যাচ্ছে অন্যসব মানের গতিও। বিশেষ করে সিগন্যাল উপেক্ষা করে ছোটেন শত শত মোটরবাইকার। দৃশ্যটা দেখে আঁতকে উঠতে হয়Ñ ‘এত ঝুঁকি নিয়ে কেন ছুটছে এরা।’ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং বাইকার ও এর যাত্রী মারাও গেছেন। যার বেশির ভাগই পাঠাও, উবার অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালিত।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগও বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরবাইকের আধিক্য ঘটেছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মোটরবাইকের কারণে রাজধানীর রাস্তা যখন ঝুঁকির মুখে ঠিক তখন পাঠাও, উবারসহ যেসব প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিংয়ের ব্যবসা করছে তারা নিজেদের সুবিধার জন্য সরকারের রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় বেশ কিছু শর্ত শিথিল করার জন্য আবেদন করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। যদিও মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদন করলেই যে সবকিছু মেনে নেওয়া হবে তা নয়। যে কেউ আবেদন করতে পারেন, সেটি মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

বিআরটি সূত্র জানান, ঢাকার রাস্তায় বর্তমানে কমবেশি ৭ লাখ মোটরসাইকেল রয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ। সূত্র জানান, ‘পাঠাও’, ‘উবার’, ‘সহজ’, ‘ওভাই’, ‘ওবোন’, ‘রাইডার’সহ বিভিন্ন অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং রাস্তায় নামায় মোটরবাইকের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মোটরবাইক নামছে। এগুলো ব্যবহার হচ্ছে রাইড শেয়ারিংয়ে।

গত কয়েক দিনে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, বনানী, মহাখালী, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, সোনারগাঁও ক্রসিং, গুলশান ১ ও ২ নম্বর গোলচত্বর সিগন্যাল, জিরো পয়েন্ট, পল্টন, কাকরাইল মোড় ঘুরে দেখা গেছে, এসব সিগন্যালে মোটরবাইকাররা ওত পেতে থাকেন ক্রসিং অতিক্রম করার জন্য। তারা কোনোরকম ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন না। সুযোগ পেলেই দ্রুত সিগন্যাল ডিঙিয়ে ছোটেন। আরেকটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে সড়কজুড়ে বাইকাররা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বাইক চালান। এতে চলমান গাড়িগুলোর চালকরা হকচকিয়ে যান। এজন্য প্রায়ই রাস্তায় বাইকারদের সঙ্গে প্রাইভেট গাড়ি থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের চালকদের বচসায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। বাইকারদের কারণে ঢাকার রাস্তায় হুটহাট গাড়ি ব্রেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে যানবাহনগুলো। বাইকারদের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে বিরাট খেসারত দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ট্রাফিকশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আমাদের একটা সার্বিক অ্যাপ্রোচ আছে। এটি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও। তবে সম্প্রতি শহরে মোটরসাইকেলের আধিক্য বেড়েছে এবং তারা অনেক সময় সিগন্যাল লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি পার হতে চায়। এখন মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর