শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৩

ময়লা দূর করার অভিনব ডাস্টবিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাসিমুল হুদা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ময়লা দূর করার অভিনব ডাস্টবিন
Google News

ময়লা ফেলার জন্য ছয়টি প্রতীকী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করেছেন আয়োজকরা। কোন ডাস্টবিনে কী ধরনের ময়লা ফেলতে হবে তা বাঁশের চাঁটাই নির্মিত প্ল্যাকার্ডে লিখে দেওয়া হয়েছে। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা আছে, ‘গেস্টরুম নির্যাতন’, ‘নারী নিপীড়ন’, ‘হেলমেট বাহিনী, ‘ম্যানার শেখানো’, ‘শিক্ষককে হেনস্থা’, ‘ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল’, ‘ডালের নামে পানি’, ‘রড-চাপাতি-হাতুড়ি’ ও ‘ভাইদের প্রটোকল’ প্রভৃতি। বিশ^বিদ্যালয়ের এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতিকে ‘সমস্যারুপি ময়লা’ হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে চিহ্নিত করে তা ডাস্টবিনে ফেলতে বলা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন উৎসবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া প্রতীকী এই উৎসব চলবে আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শুরু হওয়া ব্যতিক্রমী ময়লা উৎসব আয়োজনের গল্প বলছিলেন উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. মাঈন উদ্দিন। প্রতীকী এই উৎসবের মাধ্যমে আয়োজকরা যেমন পরিবেশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন, একই সঙ্গে ‘সিস্টেমের কারণে’ যে সব অনিয়ম ও অসঙ্গতি বিশ^বিদ্যালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে, তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

‘একদিন টিএসসির সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম। খাওয়া শেষে একবার ব্যবহারের উপযোগী কাপটি ফেলার জায়গা পাচ্ছিলাম না। আমার সঙ্গে থাকা আদনান ভাই ও রমিমকে বললাম, ময়লা ফেলার জন্য টিএসসিতে কিছু ডাস্টবিন দরকার। তারাও আমার সঙ্গে একমত হলেন। তবে আদনান ভাই বললেন, শুধু টিএসসির ময়লা কেন, এই বিশ^বিদ্যালয়ের সব ময়লা পরিষ্কার করার জন্য কিছু ডাস্টবিন দরকার। এই চিন্তা থেকেই আমরা ময়লা উৎসবের উদ্যোগ নিয়েছি।’  অভিনব এ প্রতিবাদের মূল উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আদনান আজিজ চৌধুরী, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাজমুল ইসলাম রমিম ও পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাঈন উদ্দিন আহমেদ । তাঁদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মীম আরাফাত, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র মেঘমল্লার বসু এবং চারুকলা অনুষদের সাইনুর রহমান ও শিক্ষার্থী জাহিদ জামিল।

উৎসব উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলেছেন আয়োজকরা। ইভেন্টের বিস্তারিত বর্ণনায় তারা বলছেন, ‘ময়লা যে শুধু মনোকষ্টই দেয় তা তো নয়। স্বাস্থ্যের জন্যও তা ক্ষতিকারক। বিগত এক পয়লা বৈশাখে নারী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের উপরে লম্পটের হাত, ছুড়ে দেওয়া নোংরা কথাগুলো ময়লা। পথচারীর মাথায় হেলমেট, হাতে রড, ইট, পাটকেল ইত্যাদিও ময়লা। কোনো ছাত্রের হাতে থাকা হাতুড়ি পড়ে অন্য ছাত্রের হাঁটু ভেঙে যেতে পারে, হলে পড়ে থাকা কাঁচ লেগে গোঁড়ালির রগ কেটে যেতে পারে। যেটা যেখানে থাকার কথা না সেখানে সেটা ময়লা। এই উপযুক্ত ময়লাগুলোর জন্য আমাদের অনুপযুক্ত ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগ ময়লা উৎসবে।’

উৎসবের মূল উদ্যোক্তা আদনান আজিজ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘উৎসবে যে সব ময়লার কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে অনেকদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। অনেকবার এসব সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ভেস্তে গেছে। প্রতি বছর নতুন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখানে আসে, আর তাদের এসবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি শিক্ষকদেরও। আমরা চাই এই উৎসবের মাধ্যমে তাদের চিন্তায় একটা পরিবর্তন আসুক। দেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়েও শুরু  হোক এই উৎসব, বেরিয়ে আসুক তাদের সমস্যাগুলোও।’

এই বিভাগের আরও খবর