Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মে, ২০১৯ ২৩:৫২

ই ফ তা র

চট্টগ্রামে ধনী-গরিব এক সারিতে

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ধনী-গরিব এক সারিতে

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত। একটি থালাকে ঘিরে বসে আছেন ছয় থেকে সাতজন রোজাদার। এভাবে রমজান মাসের এ ইফতার ‘উৎসবে’ প্রতিদিন উপস্থিত হন হাজারো মানুষ। দিনমজুর, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী একাকার এ উৎসবে। বাইরে পেশাগত বা অন্য কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও মসজিদে থালি ঘিরে তারা মিলেছে এক বিন্দুতে। ধনী-গরিব এক কাতারে শামিল হয়ে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে তৃপ্তির ইফতার সারছেন। প্রতি বছর রমজানে অপূর্ব এ দৃশ্যের দেখা মেলে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদে। যা গত প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসছে।

ইফতারের আগেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ ইফতারে শরিক হওয়ার জন্য ছুটে আছেন হাজারো রোজাদার। ইফতারের আগ মুহূর্তে সারি সারি করে বসেন রোজাদাররা। পাঁচ থেকে ছয়জন আবার একেকটি থালা ঘিরে বসেন। কেউ কেউ মনে মনে দোয়া-প্রার্থনা করেন। কেউ বা করেন  পবিত্র কোরআন তেলওয়াত। কেউ বা শুনেন রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আসরের নামাজের পর থেকে শুরু হওয়া আলোচনা। যা ইফতারের আগ পর্যন্ত চলে। মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হয় আলোচনার সমাপ্তি। ইফতারের আগেই স্বেচ্ছাসেবকরা রোজাদারদের সামনে পৌঁছে দেন থালা ভর্তি ইফতার। তাতে রয়েছে ঠান্ডা শরবত, ছোলা, আলুর চপ, জিলাপি, পিয়াজু, মুড়িসহ আট পদের ইফতারি। আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজাদাররা তৃপ্তি সহকারে করেন ইফতার।

আয়োজকরা জানান, অধিক সওয়াবের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ইফতার করতে এখানে আসেন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে রোজাদারদের উপস্থিতি থাকে বেশি। এ সময় মসজিদ পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হয় মেহমানদারি করতে। তখন অনেক মুসল্লি-অভ্যাগত মসজিদ পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। ইফতারে আগত এক ব্যবসায়ী বলেন, একসঙ্গে অনেকে ইফতার করলে অনেক সাওয়াব পাওয়া যায়। দোয়াও কবুল হয়। তাই সময় পেলে এখানে ইফতার করতে ছুটে আসি। দোয়া মোনাজাতে শরিক হই।

জানা যায়, চট্টগ্রামের অন্যতম পুরনো ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদে ১৯৯৬ সালে মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী যোগদান করার পর থেকেই ইফতারের আয়োজন করার চেষ্টা করেন। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০০১ সালে স্বল্প পরিসরে ইফতারের আয়োজন শুরু হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রোজাদারদের আনাগোনা। বর্তমানে এ মসজিদে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোজাদার ইফতার করেন। আন্দরকিল্লাহ শাহি জামে মসজিদ মুসল্লি পরিষদের ব্যানারে এ আয়োজনে অর্থায়ন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যক্তিরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর