Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১৮

বিএমডিএর সব কাজেই অনিয়ম-দুর্নীতি

দফায় দফায় অডিট আপত্তির পরোয়া নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বিএমডিএর সব কাজেই অনিয়ম-দুর্নীতি

খাল খনন, টেন্ডার, কোটেশন, বিদ্যুৎ ব্যবহার, বেতন বৃদ্ধি, ভ্যাট কর্তনসহ নানাকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দফায় দফায় অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও একই কাজ করে চলেছে কর্তৃপক্ষটি। ফলে বছরে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপ করা হচ্ছে এসব কাজের মাধ্যমে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। বিএমডিএর বাণিজ্যিক অডিট শাখা পরিচালিত ২০১২-১৭ সাল পর্যন্ত অডিটে যেসব অনিয়মের চিত্র উঠে আসে তার মধ্যে রয়েছেÑ কর্তৃপক্ষের জোন পর্যায়ের ভবনের তৃতীয় তলা সহকারী প্রকৌশলীদের আবাসিক ভবন হিসেবে নির্মাণ করা হলেও তা বরাদ্দ না দিয়ে ফেলে রাখার ফলে সংস্থার ক্ষতি হয়েছে ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৩ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মকর্তাদের টাইমস্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট হিসেবে প্রদানকৃত অর্থ আদায় না করায় সংস্থার ক্ষতি হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ৬৩৯ টাকা। পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ কিনে সেটি আবাসিক বাসায় সরবরাহের ফলে ক্ষতি হয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ১৭ টাকা। মেটাল ফাউন্ডারি ইন্ডাস্ট্রিজ-এর বিল হতে প্রযোজ্য হার অপেক্ষা কম হারে ভ্যাট কর্তন করায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৫ টাকা। বিলম্বে কাজ সম্পাদন করার পরেও ঠিকাদারের বিল হতে বিলম্ব ফি কর্তন না করে ক্ষতি করা হয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৩ টাকা। পার্টিসিপেশন ফির ওপর প্রযোজ্য মূসক সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৭ টাকা। পুনঃটেন্ডার আহ্বান না করে যোগসাজশের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে আমসহ ফলগাছ ইজারা দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৯৬ টাকা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এড়ানোর লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে খন্ড খন্ড ভাবে ক্রয় করে ক্ষতি করা হয়েছে ৪৭ লাখ ৯২ হাজার ৯২৫ টাকা। পিপিআর লঙ্ঘন করে সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে আর্থিক ক্ষমতার অতিরিক্ত মূল্যের পণ্য ক্রয় করে সংস্থার ক্ষতি করা হয়েছে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৫০ টাকা। পিপিআর লঙ্ঘন করে কোটেশনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৬ টাকার পণ্য ক্রয় এবং ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮৯ টাকার কাজ করে সরকারি ক্ষতি করা হয়েছে এক কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৫৫ টাকা।

 সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঠিকাদারকে মূল কাজের ২০ ভাগ অতিরিক্ত কাজ দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭০ টাকা। কোটেশনের শর্তমোতাবেক যোগ্য দরদাতা না পাওয়া সত্ত্বেও কার্যাদেশ দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯৭ টাকা। আবার বিধি লঙ্ঘন করে ঠিকাদারকে মূল ক্রয়ের অতিরিক্ত ২০ ভাগ পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি ক্ষতি করা হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ৫০৮ টাকা। এভাবে সব মিলিয়ে কেবলমাত্র ২৪টি খাতেই ৫ বছরে সরকারের ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি করা হয়েছে।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বিএমডিএর বাণিজ্যিক অডিট শাখা ছাড়াও সরকারি অডিটেও ধরা পড়ে নানা অনিয়মের চিত্র। কিন্তু এসব গোপন থেকে যায়। আবার অডিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কখনো কখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও দাখিল করতে দেওয়া হয় না।

অডিট আপত্তি সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদের মন্তব্য হলো, ‘কাজ করতে গেলে অডিট আপত্তি উঠবেই। সেগুলো নিষ্পত্তিও হবে। তবে আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। তার পরেও যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো সঠিক নয়।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর