শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১৪

ইবি সান্ধ্যকালীন কোর্স

মোবাইলে নকল করে এক দিনে তিন পরীক্ষা!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একদিনে তিন কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স সমন্বয়কের বিরুদ্ধে। গত বুধবার আইন বিভাগের পরিত্যক্ত রুমে দরজা বন্ধ করে কোনো কক্ষ পরিদর্শক ছাড়াই এক শিক্ষার্থী মোবাইলে নকল করে একদিনে টানা ৯ ঘণ্টায় তিনটি কোর্সে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।

১৮ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান         টিটু সান্ধ্যকালীন নবম ব্যাচের ৩য় সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষা এভাবে নেন। এ ছাড়াও ওই তিনটি কোর্স (১০৫, ১০৬, ১০৭) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রণয়ন করেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন। ওই আবদ্ধ কক্ষে সিটকিনি বন্ধরত অবস্থা থেকে ওই শিক্ষার্থীসহ এক সাথে তিনটি পরীক্ষার খাতা, স্মাট ফোন ও নকল জব্দ করেন। আবদ্ধ কক্ষে কোন পরিদর্শের উপস্থিতি ছিল না। ওই শিক্ষার্থী ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার নিশ্চিত করেছেন।

এসব অভিযোগ এনে ১৯ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর কাছে পৃথকভাবে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন।

অভিযুক্ত ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সময় আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। বিষয়টি আমি জানি না।

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আমি বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে পরীক্ষা সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটুকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সব প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবেনা তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইবি প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্য। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতিমুক্ত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি।

 

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর