শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:২৮

শিক্ষায় নতুন ধারা প্রবর্তন করেছিলেন স্যার আবেদ

আলোচনা সভায় বক্তারা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ছিলেন একজন কর্মঠ, দূরদর্শী মানুষ। দেশের সাধারণ মানুষ ছিল তার উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে। শিক্ষার সব স্তরে তিনি নতুন ধারার প্রবর্তন করেছেন।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফ্ফর আহমেদ মিলনায়তনে জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শিক্ষায় স্যার আবেদ : তার চিন্তা, আদর্শ ও কৃতী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। বক্তব্য দেন ব্র্যাক গভর্নিংবডির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান, গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহরার আহমেদ।

জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ধারাবাহিক যোগাযোগের কারণে ফজলে  হাসান আবেদের শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিলাম। যে কোনো বিষয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বিজ্ঞ ও প-িত মানুষদের পরামর্শ নিতেন। এর ফলশ্রুতিতে আমরা দেখি, প্রতিষ্ঠার চার বছরের মধ্যে ব্র্যাকের ‘স্কুল অব পাবলিক হেলথ’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক গণস্বাস্থ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সভাপতির বক্তব্যে ড. রেহমান সোবহান বলেন, আবেদ একজন কাজের মানুষ ছিলেন। তিনি যা করতে চেয়েছিলেন, তা করেছেন। আবেদ মানুষের চিন্তাকে পাঠ্যবই দিয়ে পরিবর্তন করে দেননি, বরং মান রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কল্পনার মধ্যে নিয়ে গেছেন। শুধু শিক্ষাই নয়, বরং ক্ষুদ্রঋণ, নারীর ক্ষমতায়ন, গণস্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, উন্নয়ন আমাদের কাছে বহুল পরিচিত একটি শব্দ। কিন্তু উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে রেখে যে উন্নয়ন কর্মকা- সাজাতে হবে, এটাই ছিল স্যার ফজলে হাসান আবেদের চিন্তার মূলসূত্র। উন্নয়ন টেকসই করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, এ জন্য তিনি ব্র্যাকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ঠিক এই জায়গাতেই তিনি বিশ্বের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছেন এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি তার মিশন আঁকড়ে ছিলেন।  রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ১৯৯৩ সালে তিনি গ্রামে গিয়ে কিশোরীদের কথা শুনে ফিরে এসে ব্র্যাকের কিশোর-কিশোরী প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। এমনকি মৃত্যুশয্যাতেই তিনি শিক্ষার কথা বলেছিলেন। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যদি তার জীবনাদর্শ ধারণ করে লাখ লাখ আবেদ তৈরি হয়, তবেই আমাদের সফলতা।  ড. আহরার আহমেদ বলেন, আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, আত্মার সম্পর্ক। ব্র্যাক প্রতিষ্ঠায় যেমন জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ভূমিকা রেখেছিলেন, তেমনি রাজ্জাক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতেও স্যার আবেদ ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাদের সমাজে যেখানে অন্যকে হেয় করে নিজের ক্ষমতা জাহির করা হয়, সেখানে আবেদ ভাই মানুষের কথা শুনতেন, তাদের মনোযোগ দিতেন। তাই গ্রামের একজন নিরক্ষর মানুষ থেকে উচ্চশিক্ষিত, সবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিশেষ ধরনের। শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভাবনা ছিল অভিনব।

 শিশুশিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষার সব স্তরে তিনি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন, যা যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর