শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২০ ২৩:০২

খুলনায় ঘূর্ণিঝড়ে ৯০ কিমি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

ক্ষতিগ্রস্তরাই নেমেছেন বাঁধ সংস্কারে

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

ক্ষতিগ্রস্তরাই নেমেছেন বাঁধ সংস্কারে

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে খুলনার উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৯০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়রা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকার জমির ফসল ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। তবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এখনই বাঁধে বড় ধরনের মেরামত কাজ করতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ কারণে নদীতে জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি থেকে জমির ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরাই। গতকাল সকাল থেকে কয়রা ও বটিয়াঘাটায় ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেন গ্রামবাসী। এর আগে মাইকিং করে ওই এলাকায় তাদেরকে জড়ো করা হয়। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি, জোড়শিং বাজার, গোলখালী, উত্তর বেদকাশি গাজীপাড়া, ঘাটাখালি এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কিন্তু গত দুদিনে বাঁধ মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগ দেখা যায়নি। সামনে অমাবশ্যা ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পাওে- এ আশঙ্কায় কয়রার গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলার সাধারণ মানুষ নিজেরাই বাঁধ সংস্কার শুরু করেছে। গতকাল জোয়ার আসার আগ পর্যন্ত সংস্কার কাজ হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে আবারও সবাইকে বাঁধে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কয়রার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর রহমান জানান, বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা সম্পর্কে আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গুরুত্ব না দেওয়ায় ভাঙনে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর যেনতেনভাবে বাঁধ সংস্কারের নামে টাকা লুটপাট হয়। কিন্তু টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় দুর্যোগ এলেই আতঙ্কে থাকে এখানকার মানুষ। তবে অর্থবরাদ্দ না থাকায় গত কয়েক বছরে বাঁধ সংস্কারে বড় ধরনের কোনো কাজ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন পাউবো, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি। তিনি বলেন,  কয়রা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হলেও এখনো তা অনুমোদন হয়নি। একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ে এখানকার প্রায় ৯০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অমাবশ্যা ও বর্ষা মৌসুম সামনে থাকায় ক্ষতি এড়াতে কয়েকটি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর