শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০২০ ০০:১১

বর্ডার হাটে নিশ্চিত হবে নিরাপদ বাণিজ্য

অনলাইন আলোচনায় দুই দেশের অংশীজনেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বর্ডার বা সীমান্ত হাটে নিরাপদ বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন দুই দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, বাণিজ্য বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সীমান্ত হাটে নিরাপদ বাণিজ্য খুবই জরুরি। কারণ সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্যের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত হাটগুলো। এটি দুই দেশের চমৎকার অর্থনৈতিক অংশীদারি, বাণিজ্য ভারসাম্য ও মানুষের সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল দেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় ও ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাটর্স ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত যৌথ অনলাইন আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউকে এইডের সহায়তায় আয়োজিত ‘বর্ডার হাট : টোল টু রিডিউস ইনফরমাল ক্রস বর্ডার ট্রেড’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন কাটর্স ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক বিপুল ভট্টাচার্য। বক্তব্য দেন ডিএফআইডির আঞ্চলিক সিনিয়র প্রোগ্রাম ও পলিসি ম্যানেজার মোহিত সিপ্পি। অনলাইন আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, উন্নয়ন সমন্বয়ের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শাহীন উল আলম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়, দ্য ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুহুল আমিন রাসেল প্রমুখ।

কাটর্সের পরামর্শক ইন্দ্রনীল বোসের সঞ্চালনায় আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাটর্সের কলকাতা অফিসপ্রধান অর্ণব গাঙ্গুলি, গবেষণা কর্মকর্তা রিজিয়া রায় ও উন্নয়ন সমন্বয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক রবার্ট শুভ্র গুডা।

আলোচনায় ড. আতিউর রহমান বলেন, মার্চে যখন প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন সংগত কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার সীমান্ত হাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে এখন সময় এসেছে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সতর্কতার সঙ্গে এ হাটগুলো আবার খুলে দেওয়ার। স্বভাবতই সীমান্ত হাটগুলোর ওপর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ অন্য সাধারণ হাট-বাজারগুলোর চেয়ে বেশি। কাজেই সীমান্ত হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক সহজতর হওয়ার কথা। আর এমন করা গেলে এই করোনার সময়ে সীমান্ত হাটগুলো নিরাপদ ও আদর্শ হাট-বাজারের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, সীমান্ত হাটগুলো একদিকে তৃণমূল পর্যায়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব জোরদার করছে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, এর ফলে উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিবেশও জোরদার হচ্ছে। তিনি বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনকে করোনার ফলে সৃষ্ট নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মাধ্যমে সীমান্ত হাটগুলোকে কীভাবে আরও টেকসই করা যায় তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করোনার মতো অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য অবিস্মরণীয় মাত্রার পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর