শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ আগস্ট, ২০২০ ২৩:৩৮

পর্দার আড়ালেই গডফাদাররা

মাদকের বেশির ভাগ চালানের হোতা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, ধরা পড়ছেন চুনোপুঁটি

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

পর্দার আড়ালেই গডফাদাররা

মাদক পাচারে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন, জামিন নিয়ে আসামির লাপাত্তা, পাচারে কাট-আউট পদ্ধতিসহ নানা কারণে বেশির ভাগ মাদক চালানের মূল হোতাদের টিকিটি পাচ্ছে না প্রশাসন। মূল হোতা চিহ্নিত করতে না পারায় অনেক মামলায় শুধু বাহককে আসামি করে দেওয়া হচ্ছে চার্জশিট। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মাদক চালানের হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ইদানীং দেখা যাচ্ছে মাদক চালানের বাহক জানে না ক্রেতা-বিক্রেতার নাম। তাদের চালানের সঙ্গে দেওয়া হয় শুধু একটি মোবাইল নম্বর। তদন্তকালে দেখা যায় নম্বরটি অন্য জনের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে কাট-আউট পদ্ধতি অনুসরণ করায় ক্রেতা-বিক্রেতা চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

এতে তদন্তে কিছুটা ব্যাঘাত হচ্ছে। তার পরও অধিদফতর চেষ্টা করছে হোতাদের চিহ্নিত করে মামলার চার্জশিট দেওয়ার।’ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদক মামলার তদন্তে বড় বাধা অধিদফতরের লোকবল সংকট, আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়া, তদন্তে যথাযথভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে না পারা এবং চালান বাহক ক্রেতা-বিক্রেতার নাম বলতে না পারা। ফলে অনেক চালানের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু বাহককে আসামি করে মামলার চার্জশিট দিতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক পাচারের হোতারা আইনে ফাঁকফোকর বের করে মামলা থেকে নিজেদের রক্ষায় নানা কৌশল অবলম্বন করছে। মাদকের চালান বাহক গ্রেফতার হলেও নিজেদের ‘সুরক্ষার’ জন্য অনুসরণ করছে নিত্যনতুন কৌশল। যার মধ্যে রয়েছে কাট-আউট পদ্ধতি, অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার, মাদক পরিবহনে রোহিঙ্গা ও নারীদের ব্যবহার, মাদক পরিবহনে ফিশিং পদ্ধতি অনুসরণ, মাদক পাচারে রিলে পদ্ধতি অনুসরণসহ নানা কৌশল অবলম্বন। এসব পদ্ধতি অনুসরণ করার ফলে বেশির ভাগ মাদক চালানের ক্রেতা বা বিক্রেতার হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। তাই অনেক মামলায় চালানের হোতাকে বাদ দিয়ে শুধু চালান বাহককে আসামি করে মামলার চার্জশিট দিতে হচ্ছে।

মাদক চালানে নারী ও রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ও নারীরা গ্রেফতার হলেও তদন্ত কর্মকর্তাদের খুব একটা তথ্য দিতে পারে না। এতে চালানের হোতারা অনেকটা সুরক্ষিত থাকে। তাই মাদক পাচারে নারী ও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর