শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২২

ত্রিপুরায় রপ্তানি, গোমতীতে কবে উড়বে সমৃদ্ধির পাল

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

ত্রিপুরায় রপ্তানি, গোমতীতে কবে উড়বে সমৃদ্ধির পাল

ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য চলত নৌপথেই। স্বাধীনতার পর সীমান্ত আইনের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। আবারও আলোচনা উঠেছে গোমতী নদী দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌবাণিজ্যের বিষয়ে। নদীটি খনন হলে কুমিল্লার কৃষিতে সাফল্য আসবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির রুট হিসেবে নৌপথ কেমন হবে তার পর্যবেক্ষণের জন্য গোমতী দিয়ে পরীক্ষামূলক ১০ টন সিমেন্ট বোঝাই কার্গো পাঠানো হয়েছে সোনামুড়ায়। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর গোমতী নদীর দাউদকান্দি থেকে সোনামুড়া পৌঁছায় নৌযানটি। নাব্য না থাকায় কার্গোটির সময় লেগেছে দুই দিন, আটকেছে ১৪টি স্থানে। সরু নদীতে ড্রেজিং না হওয়ায় ভারী পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উপযোগী নয়। তাছাড়া নৌপথে রয়েছে কম উচ্চতার ১৮টি সড়কসেতু ও দুুটি রেলসেতু, যা বড় নৌযান চলাচলে বাধার কারণ হতে পারে। উদ্বোধনের সময় কুমিল্লায় আসা তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, সাধারণত দুই দেশের মধ্যে ট্রাকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়। নৌপথ চালু হলে তা হবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার কর্মকর্তারা বলেন, গোমতী নদীর পানিপ্রবাহ সারা বছর একরকম থাকে না। বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায় ৩ থেকে ৪ মিটার পানি থাকে, শীত মৌসুমে কোথাও কোথাও ১ মিটার পানি থাকে। এটাকে সারা বছর নৌচলাচলের উপযোগী করতে পুরো নদীকে পুনঃখননের আওতায় আনতে হবে। পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে যেমন নৌপথে সম্প্রসারিত হবে ব্যবসা বাণিজ্য ও কৃষিতে আসবে আমূল পরিবর্তন।

গত বছর কুমিল্লায় এসে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেছিলেন, ১২ থেকে ১৪টি স্থানে পলি জমে নাব্য সংকট সৃষ্টি হওয়ায় নৌযান আটকে যায়। এই ট্রায়াল রানের মাধ্যমে আমরা সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছি। কোথায় কোথায় নাব্য রয়েছে, কোথায় কোথায় ব্রিজের হাইট নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে, গোমতী নদীর ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে আমাদের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তা অনুমোদন পেলে নদীর নাব্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত সরকার এই নৌপথে বাণিজ্যের জন্য বেশ আগ্রহী, কারণ বিবিরবাজার স্থলবন্দরের পাশে নৌবন্দর হলে আন্তসীমান্ত বাণিজ্যে বিশেষ সহায়ক হবে। এদিকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জানতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে তারা বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেছেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সঙ্গে ফোন করে ও মেসেজ দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএর একজন উপ-পরিচালক জানান, নৌপথটি দ্রুত খনন শুরু হবে। সেতু পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আগামী মাসে দুই দেশের একটি টিম গোমতী নদী পরিদর্শন করে সমস্যা শনাক্ত করবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর