শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০৩

নিয়োগ জটিলতায় রেল

বিধিতে আটকা রেলের ১৬৮৪ পদে জনবল নিয়োগ, নতুন নিয়োগবিধি অনুযায়ী কার্যক্রম শিগগিরই

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

নিয়োগ জটিলতায় রেল

পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১ হাজার ৬৮৪টি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় দুই বছরের বেশি সময় আগে। এরপর ১৯৮৫ সালের রেলওয়ের নিয়োগবিধি অবৈধ ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ওই পদগুলোয় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি অন্যান্য পদেও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে জটিলতার মুখে পড়েছে রেলওয়ে। তবে বিষয়টির সমাধান হলে দ্রুতই জনবল নিয়োগ দেবে রেলওয়ে, আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের। জানা যায়, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৩২ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালের রেল নিয়োগবিধির অধীনে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই নিয়োগবিধি অবৈধ ঘোষণা করে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে পশ্চিমাঞ্চলে ১২টি ক্যাটাগরিতে ৬৫২ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও আটকে যায়। গত বছরের নভেম্বরে রেলের নতুন নিয়োগবিধি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। তবে নতুন নিয়োগবিধিতে বিভিন্ন পদের বিপরীতে আবেদনের যোগ্যতা ও শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণি পাসের পরিবর্তে ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি রাখা হয়েছে। এছাড়া কোটার হারও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনের মতামত জানতে চাওয়া হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে মন্ত্রী যেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধির শর্ত পুরনোটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। তবে যেসব পদের বিপরীতে শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণের পরামর্শ দেন রেলপথমন্ত্রী। পরে বৈঠকে উপস্থিত আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে রেলওয়েকে লিখিত প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনার আশ্বাসও দেন তারা। রেলের বিভিন্ন শূন্য পদেও নতুন করে নিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দেন রেলপথমন্ত্রী। বৈঠকে জানানো হয়, নতুন পদে এখন থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বা তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে আবেদনের ব্যবস্থা করা হবে। তারা যাচাই-বাছাই করে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করবে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে রেলভবনে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি তথা স্ট্যান্ডিং কমিটি থাকবে। ওই কমিটি উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা অনুপাতে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য উপকমিটি গঠন করে দেবে। এক্ষেত্রে বৈঠকে ১১টি বিভাগের জন্য ১১টি উপকমিটি গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদত আলী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি অবৈধ ঘোষণা করায় রেলওয়ে জনবল নিয়োগ করতে পারছেন না। এর ফলে জনবল সংকটে আছে। তারা চেষ্টা করছেন শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করার। তিনি আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়োগ বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন তারা।

 তিনি আশাবাদী দ্রুত এটি সমাধান হলে জনবল নিয়োগ দেবে রেলওয়ে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর