শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৫

পুলিশ ফাঁড়িতে খুন

নোমান রহস্যে আটকা রায়হান হত্যার তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

শেষ সময়ে এসেও আদালতে আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূইয়ার সঙ্গে আবদুল্লাহ আল নোমান নামের এক যুবকের সম্পর্ক, যোগাযোগ ও হত্যার আলামত নষ্টের চেষ্টার ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্তে নেমেছে পিবিআই। এ জন্য আদালত থেকে আরও এক মাসের সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। হত্যার পর এসআই আকবর ও আবদুল্লাহ আল নোমান গা-ঢাকা দেন। আকবরকে ভারত থেকে ধরে আনা হলেও নোমান এখনো পলাতক। নোমান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুড়িডহর গ্রামের মো. ইছরাইল আলীর ছেলে। জানা গেছে, বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে মারা যাওয়া নগরীর নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত ৩০ কার্যদিবস সময় বৃদ্ধি করেন। সেই  হিসাব মতে, গত ৩১ মার্চের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল পিবিআইয়ের।

 নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই পিবিআইয়ের হাতে আসে ভারতে পালিয়ে থাকাবস্থায় এসআই আকবরের ব্যবহৃত সিমকার্ডসহ নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্য। এর সঙ্গে উঠে আসে রায়হান হত্যার পর পুলিশ ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন, পুরনো হার্ডডিস্ক গায়েব, এসআই আকবরকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা এবং নোমানের অবস্থান সম্পর্কে নানা বিষয়াদি। পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, আবদুল্লাহ আল নোমানকে ঘিরে এই হত্যার অনেক রহস্যই জড়িয়ে আছে। নোমানকে পাওয়া গেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত অনেক প্রশ্নের জবাব মিলবে। তাই নোমানের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত ও তাকে গ্রেফতারে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে পিবিআই। তদন্ত থেকে যাতে হত্যাকান্ড সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্যই বাদ না পড়ে সে জন্য আদালত থেকে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় নেয় পিবিআই।

প্রসঙ্গত, নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায় পুলিশের একটি দল। এরপর টাকার দাবিতে তাকে রাতভর ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর