শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০২১ ২৩:৫৮

ধসে পড়ছে কুয়াকাটা সৈকতের বেড়িবাঁধ

পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

রাহাত খান, বরিশাল

Google News

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং জোয়ারের পানির চাপ থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এবং লতাচাপলী ইউনিয়ন রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ করছে সরকার। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষার পানিতে বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়ছে ওই বাঁধ। ‘মাটির পরিবর্তে বালু ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং মাটির বাঁধে লেয়ার বাই লেয়ার কম্প্যাকশন’ না করায় এ নির্মাণাধীন বাঁধ ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাঁধ ধসে পড়ায় এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তবে বাঁধ নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং শুধু ভারী বর্ষার কারণেই নির্মাণাধীন বাঁধ ধসে পড়েছে বলে দাবি প্রকল্পের তদারককারী প্রকৌশলী মজিবর রহমানের। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং জোয়ারের পানির চাপ থেকে উপকূলীয় তিন জেলার মানুষের জানমাল রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর আওতায় (আইডিএ ক্রেডিট নম্বর-৬২৮০ বিডি) ১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জ, গলাচিপা, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও ভান্ডারিয়ায় ৫৯.২৫ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ, ১৪৯.৪৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ৯.৩৬ কিলোমিটার বাঁধ স্লোপ প্রটেকশন, ১৫৪.৬৪ কিলোমিটার খাল খনন, ৫১টি নতুন স্লুইচ নির্মাণ, ছয়টি স্লুইচ মেরামত, ৫১টি ইনলেট (ছোট স্লুইচ) নির্মাণ এবং ৩০টি ইনলেট মেরামতের কাজ পায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চংকিং ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এ প্রকল্পের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত রক্ষা (পোল্ডার নম্বর ৪৮)। এ পোল্ডারের আওতায় রয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা ও লতাচাপলী সৈকতে বহমান ৬ মিটার উঁচু ১৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দেড় মিটার উঁচুকরণ, নয়টি স্লুইচ নির্মাণ ও দুটি স্লুইচ মেরামত এবং সিসি ব্লক দিয়ে সৈকতের ৪.৭৮ কিলোমিটার বাঁধের প্রটেকটিভ ওয়ার্ক। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৪৮ নম্বর পোল্ডারের মাত্র ৬০ ভাগ কাজ যেনতেনভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কুয়াকাটা সৈকতের কম্পিউটার সেন্টার থেকে লেবুর বন পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ। স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়মানুযায়ী এঁটেল মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বালু দিয়ে, তার ওপর মাটি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে তারা। প্রতি সোয়া তিন ফুট উঁচু এঁটেল মাটি ফেলে রোলার দিয়ে কম্প্যাকশন করে সাত দিন পর আবার নতুন মাটি দিয়ে কম্প্যাকশন করে বাঁধ নির্মাণের কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকতের বালু দিয়ে তার ওপর মাটির আস্তর দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, নকশা অনুযায়ী যে ম্যাটেরিয়াল দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করার কথা, ঠিকাদার সেগুলো না দিয়ে সৈকতের বালু এবং সংলগ্ন খালে জমে থাকা পলিমাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছে। তারা মাটি কম্প্যাকশন না করেই বাঁধ উঁচু করছে।

 এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে বালু ধুয়ে যাচ্ছে। ধসে পড়েছে বাঁধ। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে উপকূলের মানুষের জানমাল হুমকিতে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে পর্যটনশিল্প। বিফলে যাবে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করেনি। এর আগেই সৈকত লাগোয়া নির্মিত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। এ বাঁধ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে উপকূলের মানুষের জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১-এর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, বাঁধ নির্মাণে ৩০ ভাগ বালু ব্যবহার করা যাবে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি। অতিবর্ষণে বাঁধের বিভিন্ন স্থান ধসে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার কিছু বালু ব্যবহার করেছে এটা সত্য। নির্মিত বেড়িবাঁধের যেসব অংশ ধসে গেছে বা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে, সেসব অংশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেকটিফিকেশন করে দেবে। প্রকল্পের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।