শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বিনা ভাড়ায় হল বরাদ্দ চান সাংস্কৃতিক কর্মীরা

মোস্তফা মতিহার

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অন্য সবকিছুর মতো সংস্কৃতি কেন্দ্রগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমিতেও চলছে মিলনায়তন বরাদ্দ। তবে নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ। এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঙ্গন কতটুকু জমে উঠবে তা নিয়েও যথেষ্ট দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে শিল্পকলা একাডেমির কর্তৃপক্ষের মধ্যে। এদিকে মিলনায়তন বরাদ্দে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। নাটক মঞ্চায়ন ও অনুষ্ঠানের আয়োজনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তা বর্তমানে তাদের নেই। তার পরও শিল্পাঙ্গন সচল রাখার স্বার্থে ও সংস্কৃতির ধারা বহমান রাখতে তারা অনুষ্ঠান আয়োজনে ইচ্ছুক। তবে বিনা ভাড়ায় হল বরাদ্দ পেতে তারা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছেন। ইতিমধ্যে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বরাবর একটি চিঠিও প্রদান করে ফেডারেশন। করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাংস্কৃতিক কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্যও দাবি জানানো হয় ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে প্রণোদনা প্রদানেরও দাবি জানায় গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।

বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘বিনা ভাড়ায় হল পাওয়ার জন্য গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান আবেদন করেছে। আমরা সংগীত সংগঠন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনও ফেডারেশনের এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। আমরা এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দিকেই তাকিয়ে আছি। দেখা যাক কী হয়। আশা করি মন্ত্রণালয় থেকে একটা ইতিবাচক সাড়া পাব।’

নাট্যদল থিয়াট্রনের প্রধান নুর-ই-আলম সুমন বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা নাট্যকর্মীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন নাটক মঞ্চায়ন করলেও আশানুরূপ দর্শক পাব কি না সন্দেহ। তা ছাড়া অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকবে। এ অবস্থায় ভাড়া মওকুফ না করলে নাটক মঞ্চায়ন করা সম্ভব নয়।’

পদাতিক নাট্য সংসদের জিনিয়া আজাদ বলেন, ‘করোনার কারণে অন্য সব সেক্টরের মতো সাংস্কৃতিক অঙ্গনও ক্ষতিগ্রস্ত। একটি অনুষ্ঠান আয়োজনে যে পরিমাণ অর্থের দরকার তা এখন নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেই। সরকার সব ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিলেও সংস্কৃতির এ মাধ্যমটিতে প্রণোদনা নেই বলে আমরা খুবই কষ্টে আছি। অনেক কষ্টেই চালিয়ে যাচ্ছি সংস্কৃতিচর্চা। অতএব বিনা ভাড়ায় হল বরাদ্দ না দিলে এ সময় নাটক মঞ্চায়ন ও অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব নয়।’

এই বিভাগের আরও খবর