শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

সেই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা লাগিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি আবদুল লতিফ ও রেজিস্টার সোহরাব হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ রেখে গতকাল সকাল থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত করার পর ভিসি ও রেজিস্টারের অনুরোধে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকা  বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদ ও ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে নতুন করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। দিনভর অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নানা স্লোগান দেন। এ ছাড়া রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষিকা ফারহানার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন ও আবু জাফর বলেন, শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। তাই প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকা  বন্ধ করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এটাকে আমরা ষড়যন্ত্র মনে করছি। আমাদের দাবি পূরণ হলেই আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে যাব। আর আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চলবে।

রুখসানা রাফা ও শামীম হোসেন বলেন, শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের কাছে কেউই নিরাপদ নয়। ছাত্রছাত্রীদের সামনেই আয়া, ক্লিনার ও কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাই এমন শিক্ষিকা আমরা চাই না। তার স্থায়ী বরখাস্ত চাই।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। সিন্ডিকেট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি মেনে নিয়েছি। তবে কাচি হাতে করে ঘোরার ভিডিও দেখানো হলেও চুল কাটার ভিডিও দেখানো হচ্ছে না। এ থেকেই বোঝা যায় এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার পরীক্ষার হলের দরজায় দাঁড়িয়ে একে একে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সব পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বকাঝকা করায় অপমানে নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী অতিমাত্রার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিকসহ সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে সিন্ডিকেট সভায় ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকা  বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে সব পরীক্ষাও।

সর্বশেষ খবর