শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

নোয়াখালী কুমিল্লায় আরও ছয়জন আটক, রিমান্ডে ৫

প্রতিদিন ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মামলায় নোয়াখালী ও কুমিল্লায় আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের গ্রেফতার পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গ্রেফতার আসামিরা হলেন মো. ইউছুফ, আবদুর রহিম সোহাগ, সাইফুল ইসলাম রিপন ও ইনজামুল আলী প্রত্যয়। এ নিয়ে জেলায় ৩১ মামলায় ২২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সোনিয়া আক্তারের আদালতে নতুন আরও পাঁচজনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো। এ ছাড়া আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া মোজাম্মেল হোসেন, বেলাল হোসেন, জহিরুল ইসলাম জুয়েল ও আরাফাত হোসেন সাবির এবং চাটখিলের অন্য একটি মামলায় একজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সোনিয়া আক্তার।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, মহানগরীর নানুয়ার দীঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামন্ডপে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় একটি অনলাইন পোর্টালের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি কুমিল্লার এসপি খান মোহাম্মদ রেজওয়ান গত সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার আসামিরা হলেন কুমিল্লা টাইমস অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল ও নির্বাহী সম্পাদক ফয়সাল মবিন পলাশ। সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি কুমিল্লার এসপি জানান, পূজামন্ডপে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে কুমিল্লা টাইমস নামে একটি অনলাইন গণমাধ্যম। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে কুমিল্লার পূজামন্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি কুমিল্লা। ইতিমধ্যে তদন্তও বেশ গুছিয়ে আনা হয়েছে। ছোট হয়ে আসছে ইন্ধনদাতাদের তালিকাও। এখন চলছে ক্রস চেক। গতকাল কুমিল্লা সিআইডি-সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

উল্লখ্য, ১৩ অক্টাবর কুমিল্লায় পূজামন্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনার পরদিন কোতায়ালি মডেল থানার এসআই হারুনুর রশীদ বাদী হয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এ মামলাটি দায়ের করেন। এত দিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন ওই থানার এসআই মফিজুল ইসলাম। পরে মামলা সিাইডিকে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে প্রথম দফায় সাত দিন ও শুক্রবার থেকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড থাকা আসামিরা হলেন ইকবাল হোসেন, হুমায়ুন কবির, ফয়সাল আহমদ ও ইকরাম হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর