শনিবার, ২১ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

লাগামহীন বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাগামহীন বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

প্রতিদিন মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়ছে। যার প্রভাব দেখা গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে একটানা বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামও বেড়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকায় পৌঁছানোর পর আর কমেনি। তেলের দর নিয়েও ভেলকিবাজির শেষ হয়নি।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সবজির কেজি ১০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি সবজির দর ১০০ টাকা কেজির কাছাকাছি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকার নিচে সবজি কেনার ইচ্ছা নিয়ে বাজারে গেলে ক্রেতাদের খালি ব্যাগেই বাড়ি ফিরতে হয়। গাজর বাজার ও মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও গাজরের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বরবটি ও কাকরোল গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এখন বরবটির দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর কাকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গার দামও বেড়েছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঝিঙে ও চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। রসুন এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের কেজিও গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাম অয়েলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা। আর বোতলের পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৮০ থেকে ৯৮৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে পিয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি পিঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ বিক্রি হচ্ছে। কোথাও মান ভেদে ৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ঈদের আগে কেজি ৭০০ টাকা উঠে যাওয়া গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কিছু কিছু জায়গায় ৭২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার কথাও অনেকে জানিয়েছেন। সাদা মুরগির দাম কমে এখন ১৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। আর ঈদের আগে ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। তবে সোনালি মুরগির কেজি আগের মতো ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। কই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

সর্বশেষ খবর