শিরোনাম
সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

একটু বৃষ্টিতেই বরিশাল নগরীতে জলাবদ্ধতা

খাল ভরাট করে ড্রেন তৈরিকে দায়ী করলেন বিশেষজ্ঞরা

রাহাত খান, বরিশাল

একটু বৃষ্টিতেই বরিশাল নগরীতে জলাবদ্ধতা

কীর্তনখোলা নদীর পানির উচ্চতা কম থাকার পরও একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় বিভিন্ন সড়কে। তলিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যানবাহন চালক ও পথচারীসহ নগরবাসীর। নদীর পানি কম থাকার পরও কেন সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় এমন প্রশ্ন নগরবাসীর। গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত এক সপ্তাহ অবিরাম বৃষ্টি হয় বরিশালে। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (১৭ সেপ্টেম্বর ব্যতীত) সাত দিনে ২০৭.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। এর মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর ৬৬.৬ মিলিমিটার, ১২ সেপ্টেম্বর ২৩.৬ মিলিমিটার, ১৩ সেপ্টেম্বর ৫৩.৬ মিলিমিটার, ১৪ সেপ্টেম্বর ৮.১ মিলিমিটার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১.১ মিলিমিটার, ১৬ সেপ্টেম্বর ৫২.৫ মিলিমিটার ও ১৮ সেপ্টেম্বর ২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি হয়নি বরিশালে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রের জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বরিশালের নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকে। ওইদিন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। এতে নদীর পানি উপচে নগরীর অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। নদীর পানি বৃদ্ধি এবং অবিরাম বৃষ্টিতে পানি জমে যায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তলিয়ে যায় মেজর এম এ জলিল সড়ক ও বগুড়া রোডসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং এলাকা। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমা (২.৫৫ মিটার) অতিক্রম করে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওইদিন আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। চার দিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর কীর্তনখোলা নদীর পানি প্রবাহিত হয় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। ১৬ সেপ্টেম্বর কীর্তনখোলার পানি প্রবাহিত হয় বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। অথচ শুক্রবারও একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় নগরীর বিভিন্ন সড়কে। তলিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকা। নদীর পানি কম থাকার পরও সামান্য বৃষ্টিতে কেন সড়কে পানি জমে যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল নদী-খাল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, আগে নগরীতে প্রবাহমান ছিল ২৪টি খাল। এর মধ্যে কয়েকটি খাল স্থায়ীভাবে ভরাট করে রাস্তা এবং ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। জেলখাল, চাঁদমারীখাল, সাগরদী খাল, নাপিতখালী খালসহ অন্যান্য খালের দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নাব্য সংকট থাকায় খালগুলোতে আগে যে পরিমাণ পানি ধারণ হতো এখন সেটি পারছে না। আগে মানুষজন পুকুরে গোসল করতেন। এখন তাদের বেশিরভাগ মানুষ নলকূপের পানিতে গোসল করেন। সেই পানি গিয়ে ড্রেনে পড়ছে। নগরীর পুকুর-জলাশয় বেশিরভাগ ভরাট হয়ে গেছে। খালি জমি কমে গেছে। খালি জমি পানি চুষে নিত। এখন সেই পরিমাণ পানি চুষে নিতে পারছে না মাটিতে। এসব কারণে নদীর পানি কম থাকলেও সামান্য বৃষ্টিতে মরা খাল এবং ড্রেন উপচে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশালের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, নগরীর প্রবাহমান খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার একমাত্র কারণ। খালগুলো পুনঃখনন এবং ড্রেনেড ব্যবস্থার আমূল সংস্কার হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা থাকবে না।

 সিটি করপোশেন এবং প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

রবিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার বলেন, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ১৬০ কিলোমিটার পাকা ড্রেন রয়েছে। ড্রেনগুলো ৮ সেন্টিমিটার থেকে ২ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেন উপচে পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কথা নয়। ভারী বৃষ্টি হলে সাময়িক সময়ের জন্য সড়কে জলাবদ্ধতা হতে পারে। বৃষ্টি হলে কোথায় পানি জমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সিটি করপোরেশন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর