শিরোনাম
শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা
সিআইএমসিএইচের গবেষণা প্রতিবেদন

অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ফার্মেসিতেই সর্বনাশ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

৪৪ শতাংশ ওষুধ বিক্রেতা অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি। ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ব¦রের জন্যই ফার্মেসি থেকে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এজিথ্রোমাইসিন ৪৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় সিপ্রোফ্লক্সাসিন। ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা ওষুধ বিক্রেতাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তাছাড়া ৫০টি ফার্মেসির মধ্যে ৪৭টি বিক্রয় কেন্দ্রেই সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট নেই। এভাবে ফার্মেসিতেই সর্বনাশ হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতা। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার ৫০টি ফার্মেসিতে পরিচালিত গবেষণা জরিপে এসব তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাটির প্রধান গবেষক ছিলেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিআইএমসিএইচ) ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ রাকিব হাসান এবং সহযোগী গবেষক ছিলেন সিআইএমসিএইচের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ। গবেষণাটি পরিচালিত হয় গত বছরের জুন-জুলাই মাসে।

প্রধান গবেষক সিআইএমসিএইচের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ রাকিব হাসান বলেন, বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মানবজাতির বড় বিপর্যয়ের কারণ। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে অচিরেই মানবজাতি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, পল্লী চিকিৎসক ও গ্রামের ফার্মেসিতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়, গ্রহণ, যথাযথ ডোজ ও সময়কাল মেনে না চলায় এর কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই প্রয়োজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় বন্ধ করা, সরকারি তদারকি বৃদ্ধি ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা, ফার্মেসিতে ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট রাখা, সর্বত্র মডেল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে গবেষণা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া।

সিআইএমসিএইচের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, পল্লী চিকিৎসক এবং গ্রামের ফার্মেসিগুলোতে সাধারণ জ¦র, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার জন্যও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে ক্রমান্বয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

সিআইএমসিএইচ ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাতিহা তাসনিম জিনিয়া বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করার জন্য কেবল চিকিৎসক নন, সমাজের প্রতিটি মানুষেরই সচেতনতা জরুরি। তাছাড়া এটির সঠিক মাত্রায় সঠিক রোগে, সঠিক সময়ে ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক চিকিৎসককেই হতে হবে অ্যান্টিবায়োটিকের অভিভাবক।

 

সর্বশেষ খবর