সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

বগুড়ায় লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় লকডাউন বাস্তবায়নে 
মাঠে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ

ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন। নিয়মিতভাবে বগুড়া অঞ্চলের মহাসড়কে দায়িত্ব পালনে চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ফিরিয়ে দিচ্ছে। লকডাউনের নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের অভিযোগে গত তিন দিনে প্রায় দুই শতাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে। বগুড়ায় হাইওয়ে পুলিশ ছাড়াও, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনা সদস্য, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরাও কঠোরভাবে সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে।

লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বেশ তৎপর। বগুড়া শহরের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশে করোনা প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে লকডাউনে বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার, রাজা বাজার, নিউ মার্কেট, কাঁঠালতলা, স্টেশন রোড, থানা রোড, দত্তবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাধারণ যানবাহন চলাচল কমেছে। দিনে মানুষজন দেখা গেলেও বিকালের পর থেকে যত সময় গড়িয়ে ততটায় শহর মানুষশূন্য হয়ে যায়।

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী মোড়ে, গালাপট্টি, নবাববাড়ি, সাতমাথা, থানা রোড, বড়গোলা, ফুলবাড়ি, মালতীনগর, কলোনী এলাকায় দোকানপাট বন্ধ ছিল। বগুড়া শহর থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন, দূরপাল্লারসহ আন্তঃজেলা বাস ট্রাকসহ সকল প্রকার যানবাহন বন্ধই রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা শহরের মধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টহল দেখা যায়। 
আজ  সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার সময় জেলা শহরের সাতমাথায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদকে। 

বিনাপ্রয়োজনে চলাচলকারীদের থামিয়ে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল, রিকশা, ইজিবাইক, প্রাইভেট কার চালকদেরও প্রয়োজন না থাকলে বের হতে নিষেধ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথাও বলেন। শহরের মধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তৎপর যেমন রয়েছেন ঠিক তেমনি বগুড়া অঞ্চলের মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দীন ও সঙ্গীয় ফোর্স অপ্রয়োজনে বের হওয়া যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছেন। সোমবার বগুড়া শহরের প্রবেশপথ মহাসড়কের বনানী, সাবগ্রাম, লিচুতলা, মাটিডালিসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছেন। মহাসড়কের এই সব স্থান দিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো যাত্রীকেই ঢাকা বা অন্য কোন জেলায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে সেসব যানবাহনের নামে মামলা প্রদান করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া যানবাহন আটকে দিচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া মহাসড়কের বনানীতে কয়েক ঘণ্টায় প্রায় দেড়শতাধিক কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি আটকে দেয় হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। পরে যাদের জরুরি প্রয়োজন ছিল না তাদের ফিরে দেওয়া হয়।

হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রথম লকডাউনের ঘোষণার পর থেকেই হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। ঈদের পরে গত কয়েকদিনে দুই শতাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবের পর থেকে চলমান আছে অভিযান। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে নানা অজুহাত দেখিয়ে কিছু যানবাহন ও মানুষ বাহিরে আসছে।অভিযুক্ত যানবাহন চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই ৪৭টি মামলা দায়ের দায়ের করা হয়। এরমধ্যে সিএনজি ১৪টি, ইজিবাইক ২৩টি, মোটরসাইকেল ৬টি, পিকআপসহ অন্যান্য যানবহন রয়েছে। এর আগে ২৪ জুলাই ৩০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদলত  পরিচালনা করে জরিমানা দণ্ড প্রদান করা হয়।

হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন রাখতে প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি মহাসড়কে কঠোর দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। লকডাউনের ৪র্থ দিনেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। লকডাউন বাস্তবায়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করা হচ্ছে। ঢাকা-বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনীর ৩টি টিম, দুই প্লাটুন বিজিবি, মোবাইল কোর্টের টিম মাঠে কাজ করছে।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর