Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০৮

বিস্তীর্ণ আলু খেতে ছত্রাকের সংক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঝলসে যাচ্ছে পাতা মরছে গাছ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিস্তীর্ণ আলু খেতে ছত্রাকের সংক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

লালমনিরহাটের বিস্তীর্ণ জমির আলু খেতে দেখা দিয়েছে ছত্রাকজনিত পাতা ঝলসানো (লেইট ব্লাইট) রোগের সংক্রমণ। সংক্রামিত খেতে দফায় দফায় ছত্রাকনাশক সেপ্র করেও রোগ নির্মূল করা যাচ্ছে না। এমনিতেই এবার আগাম আলু চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। তার ওপর এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না হওয়ার শঙ্কা তাদের। আলুচাষিদের এ আশঙ্কার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর। তাদের দাবি, ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এমনটি হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রকোপ কমে যাবে। জেলা সদর ও কালিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি আলু ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে আক্রান্ত ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগের নানা চিত্র। কীটনাশকের গন্ধে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। কথা হয় শিয়াল খোওয়া গ্রামের কৃষক রোকন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে গ্র্যানোলা, অ্যারিস্টিক ও কার্ডিনাল আলু রোপণ করেছেন। বর্তমানে গাছের বয়স ৫০-৫৫ দিন। এরই মধ্যে পাতা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রায় সব খেতেই ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ শুরু করেছেন। একই গ্রামের প্রভাষক সালাম জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি গ্র্যানোলা জাতের আলু রোপণ করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি তার খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এক মাস পরই আলু তোলা শুরু হবে। কিন্তু সব খেতেই পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে। মহেন্দ নগর গ্রামের লিমন জানান, দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণের পর রোগ দেখা দিলে তিন দফায় কীটনাশক দিয়েও সারেনি। উল্টো আলু গাছ মারা গেছে। সদর ও কালিগঞ্জ ছাড়াও আদিতমারির অনেক কৃষক একই অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিস্তা গ্রামের বিলাল হোসেন। তার পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার আলু গাছ সম্পূর্ণ মরে গেছে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, জমির আলু নিয়ে আমরা বিপাকে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কেউ একবারও খেত পরিদর্শনে আসেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ডিলারদের পরামর্শ নিয়ে খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছি। তার পরও নতুন করে রোগ দেখা দেওয়ায় আলুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষীরা। তবে এর ঠিক বিপরীত বক্তব্য পাওয়া গেল জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাফায়েত হোসেনের কাছে। তিনি জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার আলুর ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শীতের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও সার্বিক বিবেচনায় আলু খেত ভালো আছে।


আপনার মন্তব্য