শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৩৩

নাব্য হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ, চলছে দখলও

রাঙামাটি প্রতিনিধি

নাব্য হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ, চলছে দখলও
কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে গড়ে ওঠা স্থাপনা

৫৯ বছরেও ড্রেজিং না হওয়ায় বহু আগেই নাব্য হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ। একই সঙ্গে চলছে হ্রদের পাড় দখল। দিনের পর দিন গড়ে উঠছে হাজারও অবৈধ স্থাপনা। নানা কারণে দূষণের শিকার হ্রদের পানি। সবমিলে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।  জানা যায়, ১৯৬০ সালে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি করা হয় কাপ্তাই হ্রদ। এরপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে হ্রদটি। যার আয়তন প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। হ্রদটি সৃষ্টির পর একবারও ড্রেজিং বা খনন করা হয়নি। পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে তলদেশ। গভীরতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় দ্রুত নিচে নামছে পানির স্তর। একই সঙ্গে হ্রদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। সে চর ও হ্রদের পাড় দখল করে অনেকেই গড়ে তুলছেন স্থাপনা। নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবনও। রাঙামাটি জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন কল-কারখানা, জেটিঘাট, বাস-ট্রাক টার্মিনাল, হোটেল, বসতবাড়ির বেশির ভাগই হ্রদ এলাকায় গড়ে উঠেছে। এ সবের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পড়ছে হ্রদের পানিতে। রাঙামাটি পৌরমেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হ্রদ ঘেঁষে উভয় তীরে বেপরোয়াভাবে গড়ে উঠছে বসতি। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে  হ্রদটি। পৌরসভার বিশেষ দল অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করছে। এ গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘জলবিদ্যুতের পর, মিঠা পানির মাছ সংরক্ষণের জন্য পরিচিত কাপ্তাই হ্রদ। এ হ্রদের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে-মৎস্যজীবী। ড্রেজিংয়ের অভাবে পলি জমে হ্রদের তলদেশ ভরাট হওয়ায় ধ্বংস হচ্ছে মাছের আবাসস্থল। প্রজনন শক্তি হারাচ্ছে মাছ।’ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে হ্রদের মাছের প্রজনন শক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব বলেও জানান এ কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিংয়ের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিআইডাব্লিউটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা শহরের রিজার্ভ বাজার থেকে বরকল উপজেলার ঠেগামুখ পর্যন্ত জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর ড্রেজিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্থানীয়দের দাবি কাপ্তাই হ্রদ রক্ষা করতে হলে ড্রেজিংসহ পাড় দখলমুখক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মন্তব্য