প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:২২

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই পিঁয়াজ চাষিদের

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই পিঁয়াজ চাষিদের
মেহেরপুরে চাষিদের আঙিনায় পিঁয়াজের স্তূপ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল তারা। দিন যত যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন ততোই ফিঁকে হচ্ছে। কৃষকের জমিতে পিঁয়াজ পরিপক্ব হলেও দাম না থাকায় তা না তুলে জমিতে ফেলে রেখেছেন। কৃষকদের দাবি পিঁয়াজের দাম ভালো না পেলে আমাদের বিঘাপ্রতি জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর মেহেরপুরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল মেহেরপুর বড় বাজার আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুখসাগর কেজিপ্রতি ৭-৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৬ টাকা দরে। কৃষি বিপণন অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী ‘প্রতিকেজি পিঁয়াজের উৎপাদন খরচ ১৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ১ একর জমিতে পিঁয়াজ আবাদে খরচ হয় ৯৭ হাজার ৩৮৩ টাকা। প্রতি একরে ৫ হাজার ৬০ কেজির মতো পিঁয়াজ হয়। ট্যারিফ কমিশন প্রতিকেজি পিঁয়াজে কৃষকের মুনাফা ২০ শতাংশ ধরে কাক্সিক্ষত দর ধরেছে ২১ টাকা।’ সম্প্রতি পিঁয়াজ আমদানি ও দেশের সব জায়গায় একসঙ্গে পিঁয়াজ উঠায় দাম কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। মুজিবনগর উপজেলার পিঁয়াজের ফড়িয়া আব্দুল মতিন বলেন, এখন কৃষক পর্যায়ে দর খুবই কম। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় দাম একটু কম। এক্ষেত্রে কৃষকরা ৩-৬ মাস ঘরোয়াভাবে বাঁশের আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে পিঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন। এছাড়া আমরা আশা করছি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি মেহেরপুরের কৃষকদের কথা মাথায় রেখে একটি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন। তাহলে চাষিরা যথাসময়ে সেগুলো বিক্রি করে যথাযথ মূল্য পাবেন।


আপনার মন্তব্য