শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ জুন, ২০২১ ২৩:৩৩

ফুঁসে উঠছে তিস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

ফুঁসে উঠছে তিস্তা
Google News

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতি বৃষ্টির পানিতে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে তিস্তা নদী। ১০ দিন আগে তিস্তায় ভেঙে গেছে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বেড়িবাঁধ। এক দিনে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে দশমিক ২৫ সেন্টমিটার। ফলে বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন তিস্তার দুই পাড়ের মানুষ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী ১০ দিনে বন্যার কোনো শঙ্কা নেই। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আগের দিন ছিল ৫১ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার থেকে। এর আগে গত ২৯ মে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধের ৩০০ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় ওই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সেময় ওই এলাকার সহস্রাধিক হেক্টর জমির উঠতি বাদাম ও ভুট্টাক্ষেত তলিয়ে যায়। বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে বর্ষা মৌসুমে বন্যায় গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিনবিনা এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ ছিল। গত বন্যায় তা ভেঙে তিস্তার স্রোত গতি পরিবর্তন করে। এতে বন্যা ও ভাঙনের শিকার হয়ে ওইসব এলাকার মানুষ। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করে কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে চলতি বছর ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় তারা স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে। যাতে তিস্তার মূল গতিপথ শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু বাঁধ ভেঙে এবারও তিস্তা ভিন্ন পথে চলতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, বাঁধ না থাকায় গত বছর বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল পুরো এলাকা। সেই ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এলাকাবাসী। বিনবিনা এলাকায় একটি স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ফলে চলতি শুষ্ক মৌসুমে গ্রামবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। সেটির ৩০০ মিটার কয়েক দিন আগে ভেঙে গেছে। তিস্তার পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের মতো এবারও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে গঙ্গাচড়াসহ আশপাশের এলাকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, জনগণ যে বাঁধটি বানিয়েছিল তা ছিল অপরিকল্পিত। তাই ভেঙে গেছে। তবে ওই এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়লেও পূর্বাভাস অনুয়ায়ী আগামী ১০ দিনে বন্যার কোনো শঙ্কা নেই।