শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০২১ ২৩:২৩

বিল দখল নিয়ে বাড়ছে খুনোখুনি

তাড়াইলে এক যুগে ছয়জন নিহত॥ গড়ে উঠেছে একাধিক গ্রুপ

সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন, কিশোরগঞ্জ

বিল দখল নিয়ে বাড়ছে খুনোখুনি
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় এলাকার সাজিয়া বিল। গতকাল তোলা ছবি -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বিল নিয়ে স্থানীয় একাধিক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধের জেরে গত এক যুগে হামলা-সংঘর্ষে খুন হয়েছেন ছয়জন। সবশেষ গত ৭ জুন সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন নহত হয়েছেন। সাজিয়া, ডুবাইল ও আমাইল এ তিনটি বিলের অবস্থান তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নে। এলাকাবাসী জানান, এ সব বিলের দখল নিয়ে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি গ্রুপ। যাদের মধ্যে প্রায়ই ঘটে দ্ধন্ধ-সংঘাত। ‘বড় দল’ ও ‘ছোট দল’ নামে দুটি গ্রুপে বিভক্ত বিলকেন্দ্রিক লোকজন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ বছরে বিল নিয়ে সংঘর্ষে খুন হয়েছেন জজ মিয়া, ইদিল, সাহেদ, শিশু জামাল, শফিকুল ও রাশিদ। এর মধ্যে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় খুন হন শফিকুল ও রাশিদ খুন হন। ইজিবাইক চালক শফিকুল ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইজিবাইক চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন। একটি পক্ষ তাকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে খুন করে। এছাড়া সংঘর্ষের সময় রাশিদ বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ আসার খবরে তিনি বাড়ি থেকে সরে যান। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত ১১টার দিকে সাজিয়া বিলে তার লাশ পাওয়া যায়। রাশিদের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই দিন সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি হাঁস, মুরগি ও গবাদি পশুও লুট হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ ও পুলিশের ভয়ে এলাকার বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য এখন গ্রামছাড়া। নিহত শফিকুলের স্ত্রী খাদিজা বলেন, স্বামীর উপার্জনেই তাদের সংসার চলতো। তাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। নিহত রাশিদের পুত্রবধূ মাকসুদা বলেন, সংঘর্ষের সময় পালিয়েও বাঁচতে পারেননি তার শ্বশুর। তারা এই দ্ধন্ধ-সংঘাতের অবসান চান। স্থানীয় দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাপ হোসেন বলেন, বিলকেন্দ্রিক সবাই এক সময়ে ঐক্যবদ্ধ ছিল। পরে স্বার্থ ও ভাগাভাগি নিয়ে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিল নিয়ে বড় দল ও ছোট দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারেই সংঘর্ষ হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এখানে কারো নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষকে টিকে থাকতে হলে পক্ষ নিতেই হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার। তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, তিনি এখানে যোগদানের আগে থেকেই দ্ধন্ধ-সংঘাত চলে আসছে। ৭ জুন সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।