শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে দফায় দফায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী খালপাড়া ও কাজিপাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫-২০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর হয়েছে। সংঘর্ষে ছয়জন পুলিশসহ উভয় পক্ষের ৪০-৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আছাদ শেখ (৪০) নামে একজন ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। উভয় পক্ষের বাকি আহতরা বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়ে পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর ও বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মাসুদ শেখের সমর্থক মনিরুল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আ. মান্নান মাতুব্বরের সমর্থক নজরুল মোল্লা স্থানীয় কুমার নদে পাশাপাশি পাট পচানোর জন্য জাগ দেন। কয়েকদিন পর মনিরুলের পাটের জাগ হারিয়ে গেলে তিনি নজরুল মোল্লার বাড়ি গিয়ে পাটের জাগের ব্যাপারে জানতে চান। এ সময় নজরুল মনিরুলকে বলেন, আমার পাট উঠিয়ে নিয়ে এসেছে; তোমারটা কোথায় গেছে তা জানি না। ওই সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনা ও কোরবানির মাংস কীভাবে ভাগাভাগি হবে এ নিয়ে ময়েনদিয়া ও পরমেশ্বরদী গ্রামে ঈদের আগেরদিন দুই গ্রুপের বিভিন্ন সময় গোপনে মিটিং চলছিল। এ ঘটনার জেরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, রামদা ও লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের কিছু লোক মাসুদের লোকজনের পক্ষ নেয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজনের বাড়িঘর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট হয় বলে জানা যায়। এতে উভয় পক্ষের ১৫-২০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৪০-৫০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আহতদের মধ্যে আছাদ শেখ (৪০) ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। উভয় পক্ষের বাকি আহতরা বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে পলাতক রয়েছেন। এ ব্যাপারে পরমেশ্বরদী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মাসুদ শেখ বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। ঈদেও বাড়ি যায়নি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা মুকুল আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তাই তার সঙ্গে রাজনীতি করি। তবে মান্নান মাতুব্বর বিভিন্ন সময় আমাকে ও লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেন, ময়েনদিয়া বাজারে ব্যবসা করতে হলে আমার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। শুনেছি ময়েনদিয়া বাজারে আমার দোকান ও আমার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে মান্নান মাতুব্বর গং। আরেক পক্ষের নেতৃত্বকারী পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আ. মান্নান মাতুব্বর বলেন, আমি স্থানীয় রাজনীতি করি। আমার লোকজনকে দলে নিতে মাসুদ ও চেয়ারম্যান মুকুল মিনা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখায়। গতকাল তাদের লোকজন আমার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালালে আমার লোকজনও তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আমার দুই আত্মীয় মারাত্মক আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।