শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

সবজি চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সবজি চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায় একপাশে গারো পাহাড় আর বাংলাদেশ ভূখন্ডের নিচু অংশজুড়ে আবাদি জমি ছেয়ে আছে সবজির মাচায়। প্রতিটি মাচায় ঝুলছে ঝিঙে, করলা, বরবটি, লাউসহ আগাম শীতকালীন সবজি। গ্রামীণ রাস্তার পাশ থেকে শুরু করে মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে আগাম চাষ করা সবজি খেত। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার আশায় নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের সহস্রাধিক কৃষক। সবজি চাষেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, হালুয়াঘাটের জুগলী, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটা- এ তিন ইউনিয়নে বিভিন্ন সবজি চাষ করেন সীমান্ত এলাকার দরিদ্র কৃষকরা। রবি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সবজি চাষের উপযোগী। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। এ ছাড়া পাইকারি পর্যায়ে সবজির দামও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সবজি খেত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কেউ কেউ। সেখান থেকে কিনে কার্টুনে করে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। পিকআপ ভ্যানে এ সবজি যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার আড়তে। কৃষকের উৎপাদিত আগাম শীতকালীন সবজি সরাসরি পাইকাররা কিনে নেওয়ায় কিছুটা দুর্ভোগ কমেছে বলে মত স্থানীয়দের। ভুবনকুড়া ইউনিয়নের কড়ইতলী এলাকার সবজিচাষি খলিলুর রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ৪০ শতাংশ জমিতে ঝিঙে আবাদ করেছেন তিনি। ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। আবাদ করতে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। দাম ভালো থাকলে ৬০-৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। এবার প্রতি মণ ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ফলন থাকবে পুরো আশ্বিন মাস পর্যন্ত।

একই এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সারা বছরই সবজির আবাদে শ্রম দিচ্ছেন তিনি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার খরচ চলে যায়। কৃষক ইন্নছ আলী জানান, কম সময়ে খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে দিন দিন সবজি চাষে মনোযোগী হচ্ছেন অনেকে। হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বীজ-সার সরবরাহের ফলে এ অঞ্চলে সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইউএনও রেজাউল করিম জানান, মাঠের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে সবজি আবাদের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সর্বশেষ খবর