পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে স্থানীয়দের, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের। সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে যায় রাস্তাগুলো। দেখে মনে হয় যেন হালচাষ করা কৃষকের জমি।
খাজুরা সরকারি (পাইলট) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বিদ্যালয়টির চারপাশে কোনো পাকা রাস্তা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। ফলে বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিম জানায়, ‘বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। জামাকাপড় ভিজে এবং কাদা লেগে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয়।’ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তারসহ অন্যরাও একই দুর্ভোগের কথা জানায়।
তারা আরও জানায়, বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে দুটি ভাঙা কাঠের সাঁকো, যা পার হয়ে শিশুদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোগুলো শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, খাজুরা এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। এখানে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩২০ জন। মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের সাত-আট কিলোমিটার দূরে মহিপুর বা কুয়াকাটায় যেতে হয়; যা অধিকাংশ পরিবারের সন্তানদের পক্ষেই সম্ভব নয়। ফলে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
খাজুরা সরকারি (পাইলট) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছগির আহম্মেদ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে জানানো হয়েছে। আদৌ কোনো কাজ হয়নি।’
লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের খাজুর গ্রামে একটিও পাকা সড়ক নেই। তবে এখানকার কাঁচা রাস্তাগুলোর স্কিম দেওয়া আছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাব।’