Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:৫৯

শরীয়তপুরে ২ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে ২ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরে গবিন্দ চন্দ্র মন্ডল নামে ২ মাসের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। 

ঘটনার পর পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ বলছে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে শরীয়তপুর সদরের প্রেমতলা যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্রের পশ্চিম পার্শ্বের বাড়ীতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদরের প্রেমতলা যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্রের পশ্চিম পার্শ্বের বাড়ী মন্ডল বাড়ির বিমল চন্দ্র মন্ডলের ২ মাস বয়সি একমাত্র পুত্র গবিন্দ চন্দ্র মন্ডলকে ঘরের মধ্য ঘুম পারিয়ে রেখে সকাল ১০ টার দিকে গোসল করতে যায় তার মা দিপা রানি। গোসল শেসে ঘরে গিয়ে তার ছেলেকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার দিয়ে খুজতে থাকে। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির এবং পার্শ্ববর্তী লোকজন খোজাখুজির একপর্যায় বিমলের বড় বোন গিতা রানী মন্ডল শিশুটিকে ঘরের বারান্দার খাটের এক কোনে রেকসিন পেচানো অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় শিশুটির মুখে এবং নাকের মধ্যে লবন মাখানো ছিল বলে জানায় পরিবার ও স্থানীয়রা। 

এরপর তাৎক্ষনিকভাবে শিশুটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্য ঘোষনা করে। পরে স্থানীয়রা পালং মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের মা দিপা রানি ও পরিবারের দাবি, তাদের পার্শ্ববর্তী দীগেন মন্ডলের সাথে একটি মোবাইল ফোন চুরিকে কেন্দ্র করে  বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার পর পুলিশ উভয় পরিবারের লোকজন থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
   
বিমলের বোন গিতা বলেন, আমি অন্য বাড়িতে ভাড়া থাকি। হটাৎ লোকমুখে খবর পাই বিমলের ছেলে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি সাথে সাথেই বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খোজাখুজি করি। অনেকখন খোজ করার পরে ঘরের বারান্দার খাটের নিচে রেকসিন পেচানো অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানায় শিশুটি মারা গেছে।

বিমলের চাচাতো ভাই নিখিল মন্ডল বলেন, আমি প্রেমতলা ছিলাম। আমার ভাইয়ের বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে না শুনে বাড়িতে য়েয়ে দেখি গিতা চিৎকার দিয়ে বলে বাচ্চা পাইছি, আমি কাছে গিয়ে দেখি শিশুটির নাকে মুখেসহ সারা শরীরে লবন ছিটানো রয়েছে।

নিহত শিশুর মা দিপা রানি বলেন, আমি আমার ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে গোসল করতে যাই। গোসল শেষ করে ঘরে ঢুকে দেখি আমার ছেলে ঘরের খাটে নাই। আমি চিৎকার দিলে লোকজন ছুটে আসে। এর পর গিতা রানি বারান্দার খাটের এক কোনে  রেকসিন পেচানো অবস্থায় দেখে। কয়েক দিন যাবত আমার চাচা শশুরদের সাথে ঝগড়া চলছে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। যারা  আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে আমি তাদের বিচার চাই। 

পালং মডেল থানার ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। দুই পরিবারের লোকজন থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য