Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : ২৫ মে, ২০১৯ ১৩:০৮
আপডেট : ২৫ মে, ২০১৯ ১৪:২৩

খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মাদারীপুর প্রতিনিধি

খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মাদারীপুরে চলতি বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের আগেই রাজৈরের টেকেরহাট খাদ্য গুদামে ৪শ মেট্রিক টন চাল গুদামে ভর্তি করে রাখায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৪ মে বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করতে গিয়ে বিষয়টি রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিনের দৃষ্টি গোচর হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনের আগেই প্রত্যায়নপত্র ছাড়া চাল সংগ্রহ শুরু করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন ভর্ৎসনা করেন ভারপ্রাপ্ত গুদাম রক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনকে। স্থানীয়ভাবে চাতাল কল মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সিন্ডকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল সংগ্রহ করছে।

একাধিক চাতাল কল মালিকদের অভিযোগ, চাল সরবরাহ করতে গুদামের কর্মকর্তাদের কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা হারে ঘুষ দিতে হয়। চাতাল কল মালিকদের স্থানীয়ভাবে ধান সংগ্রহ করে সেই ধান থেকে চাল উৎপাদন ও সরকারি গোডাউনে সরবরাহ করেই নিয়ম। কিন্তু খাদ্য গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের দিয়ে অন্য অঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে রাতের আধারে চাল গুদামে ঢুকাচ্ছে। আর কাগজে কলমে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নামে চাল সরবরাহ হচ্ছে বলে উল্লেখ করছে।

এছাড়া চাল সংগ্রহকালে খাদ্য পরিদর্শক দ্বারা চালের মান পরীক্ষা করে প্রত্যায়নপত্রসহ খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের বিধান থাকলেও মান পরীক্ষা না করেই সংগ্রহ করা হচ্ছে চাল। এতে করে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, টেকেরহাট গুদামের ৪শ মে. টন চাল কোনও রকম প্রত্যায়নপত্র ছাড়াই সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যায়নপত্র দেখাতে পারেনি ভারপ্রাপ্ত গুদাম রক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিন।  অভিযোগ উঠেছে, দুই মিল মালিকের কাছ থেকে অর্থিক সুবিধা নিয়ে উদ্ধোধনের আগেই তাদের কাছ থেকে ৪শ’ টন চাল সংগ্রহ করেছে গাজী সালাহ উদ্দিন।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চালের মিলে বিদ্যুৎ নেই। তাদের উৎপাদনও নেই এমন  চালকল মালিকদের  সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এতে শর্ত পূরণকারী প্রকৃত চালকল মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক চালকল মালিক জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ব্যক্তি স্বার্থে নামসর্বস্ব চালকল মালিকদের ধান-চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এতে প্রকৃত মালিকরা বঞ্চিত হয়েছেন।

এব্যাপারে রাজৈর রাইজ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এদেশে তো অনেক কিছুই হয়। অনেক মিলেই বিদ্যুৎ নেই তবুও বরাদ্দ পেয়েছে। এটা নিয়ে বলার কিছু  নেই।’

এ ব্যাপারে টেকেরহাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সালাহ উদ্দিন অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন। 

তবে রাজৈর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হাফিজুর রহমান অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রত্যায়নপত্র ছাড়া চাল সংগ্রহ করার বিধান নেই। সেক্ষেত্রে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে।

উদ্ধোধনের আগেই চাল সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে সংগ্রহ করা যায়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমানকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, আমার অনুমতি ছাড়াই গোডাউনে বেশকিছু চাল ভর্তি করে রাখা হয়েছে। উদ্বোধন করতে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে আসে। তখন আমি গুদাম কর্মকর্তাকে বকাবকি করেছি।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য