Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৯ ১৫:৫২
আপডেট : ২৭ জুন, ২০১৯ ১৫:৫৭

সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করা শিক্ষককে গণধোলাই

এম এ শাহীন, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে

সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করা শিক্ষককে গণধোলাই

সিদ্ধিরগঞ্জে আপত্তিকর ছবি তুলে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ওই দুই শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। 

পরে এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পরে শিক্ষকের সাথে ছাত্রীদের আপত্তিকর একাধিক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়। 

বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবসী লম্পট ওই দুই শিক্ষকের ফাঁসি দাবি করে র‌্যাব ও পুলিশের সামনে 
স্লোগান দিতে থাকেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
 
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহীন শাহ পারভেজ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম গত ৮ বছর ধরে অংক ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছে। তার চাকরি জীবনে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করতে বাধ্য করে। 

এছাড়া ছাত্রীদের কোচিং পড়নোর জন্য তার বাসা ও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। সেখানে তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ওই ফ্ল্যাটে তিনটি খাটছিল বলে জানায় ফ্ল্যাটের দারোয়ান। 

গত তিনদিন যাবত তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড গুলো এলাকায় প্রচার হতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে গেলে আরিফু ইসলাম তার মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবি গুলো মুছে ফেলে। পরে এলাকাবাসী তার মোবাইল উদ্ধার করে একটি মোবাইল দোকানে সফটওয়ারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই স্কুলে হামলা চালায়। এসময় স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই শিক্ষক কর্তক যৌন লালসার শিকার হয়। মেয়ে এখন নমব শ্রেণিতে পড়ছে। এখনও লম্পট শিক্ষকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আমার সন্তান। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। গত ২-৩ দিন পূর্বে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুব সমাজকে বলেছি।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট্ট একটি কিন্টার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলুফিকার। পরবর্তীতে ওই স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কিনে নেয়। ৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে অংক ও ইংরেজির শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম।

এলাকাবাসী আরও জানায়, তার অপরাধগুলোকে সহযোগিতা করতো স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এর আগে  তিনমাস পূর্বে স্কুলের এক শিক্ষিকার সাথেও যৌনহয়রানি করে শিক্ষক আরিফুল। 

ওই শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে মুক্ত করেন বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক।   
 
র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানায়, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার মোবাইল থেকে ছাত্রীদর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীর সাথে ওই শিক্ষক ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে। যা প্রথামকিভাবে ওই শিক্ষক আমাদের কছে স্বীকার করেছেন।

এদিকে একই এলাকায় বসবাস করা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া স্কুল বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি খবর পেয়েছি ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ব্লাকমেইল করে মেয়ের মাকেও ধর্ষণ করেছে। 

 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য