শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৭

তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, খাদ্য ও ত্রাণ সংকট

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, খাদ্য ও ত্রাণ সংকট

তিস্তা ও ধরলার পানি নেমে গিয়ে বন্যার পরিস্থির উন্নতি হলেও সোমবার বিকেল থেকে আবারও নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে তিস্তা ও ধরলার পাড়ে। আবার বন্যা দেখা দেওয়ায় পরিবারগুলো স্থানীয় গাইডবান ও সড়কে আশ্রায় নিয়ে বসবাস করছেন। এতে দেখা দিয়েছি খাদ্য ও ত্রাণ সংকট। লালমনিরহাট জেলায় আবারও ভয়াবহ বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে ডালিয়া পানি উন্নয়র বোর্ড নিশ্চিত করছেন। এদিকে ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ১৫ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ দিকে ১২ দিনে তিস্তার পানির তোড়ে জেলার আদিতমারি উপজেলার নদী রক্ষা কুটিরপাড় বাঁধের ২শ' মিটার ধসে গিয়ে  হাজারো পরিবার প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী থাকলেও অধিকাংশ চরেই তেমন কোন ত্রাণ কিংবা সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছায়নি। দুভোর্গে পড়েছে ভানবাসী মানুষ। 

গত ১২ দিন ধরে পানিবন্দী রয়েছে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার,সানিয়াজান, ফকিরপাড়া, সির্ন্দুরনা, ডাউয়াবাড়ি, গড্ডীমারী, পাটিকাপাড়া, চর গড্ডীমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর, চর বৈরাতী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, গোর্বধন, কুটির পার ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, মোগলহাট, কুলাঘাটসহ নদী তীরবর্তী ১৬টি ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে বসতবাড়ী, রাস্তাঘাট ও স্কুল কলেজ। দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের। 

পানিবন্দী পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখনও অধিকাংশই পাননি ত্রাণ কিংবা কোন সাহায্যে সহযোগিতা। হাতীবান্ধা উপজেলার কোন আশ্রয় কেন্দ্রে না থাকায় পরিবারগুলো স্থানীয় গড্ডিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে নানা পানিবাহিত রোগ।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. গফুর জানান, ১২ দিন ধরে ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। সরকারী সাহায্য খুব কম পেয়েছি।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ৪ শত ১০ মেট্রিকটন চাউল, ৩ হাজার ৩ শত প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৯ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য