শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল, ২০২০ ১২:১৯
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০২০ ১২:২০

কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন কাশিয়ানীর ইউএনও

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন কাশিয়ানীর ইউএনও
খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন ইউএনও সাব্বির আহমেদ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণকে নিরাপদে নিজ ঘরে অবস্থানের সরকারি নির্দেশে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা কাশিয়ানী উপজেলা। কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছে উপজেলার শ্রমজীবি নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ করতে না পেরে খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। 

তবে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাব্বির আহমেদ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। 

ইউএনও সাব্বির আহমেদ বলেন, খাদ্য ও চিকিৎসার পিছনে আপনাকে ছুটতে হবে না। খাদ্য ও চিকিৎসা আপনার পিছনে ছুটবে। তা না হলে আমাকে ফোনে জানালে আমিই ব্যাবস্থা করবো। 

তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে ছুটে যাচ্ছেন দরিদ্র মানুষের কাছে। রাত-দিন সার্বক্ষণিক মুঠোফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে গোটা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। রাত-দিন বলে তার কাছে কোন কথা নেই। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ প্রত্যন্ত এলাকা। সরকারের সেবা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানবিক সমাজ গঠনে নিরলস কাজ করছেন ইউএনও সাব্বির আহমেদ।

এ সময় ইউএনও সাব্বির আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি ও লে. কর্নেল (অবঃ)মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির দিক নির্দেশনায় সরকারিভাবে প্রাপ্ত মানবিক খাদ্য সহায়তা থেকে অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। যাতে কোন কর্মজীবী দরিদ্র মানুষ খাদ্যের অভাবে অভুক্ত অবস্থায় না থাকেন। সে জন্যই এই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারসহ যে কোন পরিবারের খাদ্য সামগ্রীসহ যে কোন ধরনের সমস্যা হলে ফোনে জানালে অথবা ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পাঠালে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন ইউএনও।

তিনি বলেন, কাশিয়ানীতে প্রথম পর্যায়ে ৮০০ জনকে ২০ কেজি চাল, সাথে ডাল, তেল,  আলু, পেয়াজ, লবণ। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫০০ জনকে এবং পরবর্তীতে ১৯০০ জনকে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এসব মানুষের মাঝে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের টাকায় ৩০০ জনকে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেয়াজ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সহযোগিতার জন্য হট লাইন নম্বর খুলা হয়েছে। মধ্যবিত্ত যারা লাইনে দাঁড়াতে লজ্জা পাবে এরকম শতাধিক লোককে গোপনে ত্রাণ সহযোগীতা দেয়া হয়েছে। সাথে বেদে, তৃতীয় লিঙ্গের পরিবারকেও ত্রাণ সহযোগীতা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে এবং দোকানপাটগুলোতে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন হাট-বাজারে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য