শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩০
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩৩

মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক শ্যামল

রাহাত খান, বরিশাল

মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক শ্যামল

বরিশালের উজিরপুরের শিকারপুরে বারী-১ জাতের মাল্টা চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন কৃষক শ্যামল ব্যানার্জী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারী জাতের ৪১টি মাল্টা চারা লাগিয়ে গত ৩ বছরে অন্তত ৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি। 

নতুন এই মাল্টা খেতে মিষ্টি। দেখতেও রয়েছে বিশেষত্ব। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে আসছেন অনেকে। তারাও মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আগ্রহীরা নতুন জাতের মাল্টা চাষ করলে সব ধরনের সহযোগিতা করার কথা বলেছে কৃষি বিভাগ। এতে বেকাররা লাভবান হবে আশা কৃষি বিভাগের। 

উজিরপুরের শিকারপুরের শ্যামল ব্যানার্জী আগে মার্কেটিং ব্যবসা করতেন। এতে তার তেমন আয় ছিল না। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৪ বছর আগে বাড়ির পাশে ৩০ শতাংশ জমিতে বারী-১ জাতের ৪১টি মাল্টা গাছ লাগান তিনি। 

কঠোর পরিচর্যায় দ্বিতীয় বছরেই ফল ধরে তার গাছে। তবে তৃতীয় বছরে আসে সাফল্য। চতুর্থ বছরে ৪১টি গাছে অন্তত ৫০ মন মাল্টা উৎপাদিত হয় তার। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়া উৎপাদিত এই মাল্টা পাকলেও বাইরে রঙ থাকে সবুজ। 

বাজারে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। বিদেশি মাল্টার চেয়ে দামও কম। শ্যামল ব্যানার্জীর বাগানের মাল্টা দেখতে রয়েছে বিশেষত্ব। খেতেও মিষ্টি। তার বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েকজন কর্মচারী। মাল্টা বাগান ছাড়াও মাছের ঘের, বারী জাতের আম এবং খাটোজাতের নারিকেল বাগান রয়েছে কৃষক শ্যামলের।

মার্কেটিং ব্যবসা ছেড়ে কৃষিতে মনোযোগ দিয়ে সাবলম্বী হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন শ্যামল। বেকার যুবকসহ অন্যদেরও কৃষিতে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে তারাও আশানুরূপ লাভবান হবেন প্রত্যাশা তার।

ব্যাপক ফলনের খবরে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিনই শ্যামলের কৃষি দেখতে আসছেন অনেকে। শ্যামলের কৃষি মন জুড়ানোর মতো বললেন বরিশাল নগরী থেকে শ্যামলের কৃষি দেখতে যাওয়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতা সাইফুর রহমান মিরন। তার এই কৃষি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কাশেম সেন্টু জানান, শ্যামল ব্যানার্জীর মাল্টা, আম ও নারকেল বাগান এখন এই এলাকার দর্শনীয় স্থান। দূরদূরান্তের মানুষ এখানে এসে সবুজের সাথে মিশে যায়। মিতালী করে। তারা বিভিন্ন ফল গাছের সাথে সেফলি তোলে। আবার নমুনা স্বরূপ গাছের ছবি তুলে নিয়ে যায়। 

শ্যামল ব্যানার্জীর সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেকেই মাল্টা, আম ও খাটোজাতের নারকেল বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক সেন্টু। 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাওফিকুল আলম বলেন, দক্ষিণের মাটি-পানি এবং আবহাওয়া বারী জাতের মাল্টা ও আম চাষের উপযোগী। এই জাতের মাল্টা ও আম চাষ করলে উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। বেশি করে বারী জাতের মাল্টা ও আম বাগান করার পরামর্শ দেন তিনি। উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার কথাও বলেন এই কৃষি কর্মকর্তা। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর