শিরোনাম
প্রকাশ : ২ অক্টোবর, ২০২০ ০২:১৪
আপডেট : ২ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:২৪

আশুলিয়ায় মজুদ রাখা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী জব্দ

সাভার প্রতিনিধি

আশুলিয়ায় মজুদ রাখা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী জব্দ

সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট গণবিদ্যাপীট উচ্চ বিদ্যালয়ের দু'টি রুমে মজুদ রাখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ সামগ্রী জব্দ করেছে সাভার উপজেলা প্রশাসন। জব্দকৃত ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৯ টি শুকনো খাবার বস্তা ও ১০ কেজি করে চালের ৫২ টি প্যাকেট। শুকনো খাবারের মধ্যে রয়েছে চিনিসহ নানা পণ্য। 

স্থানীয়রা জানান, পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ সামগ্রী দুস্থদের মাঝে বিতরণ না করে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সেগুলো স্কুলের দুই রুমে মজুদ করে রেখেছিলো।

এলাকাবাসী বলছে, গেল কয়েক মাস আগে সাভার উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ সামগ্রী ২০১৯/২০ অর্থবছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাথালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্ত ও দুস্থদের মাঝে বরাদ্দের জন্য শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সামগ্রী পান পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান। সেগুলো আগষ্ট মাসের ৭ তারিখে দুস্থদের মাঝে বিতরণের সময় থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণ সামগ্রী গুলো বিতরণ না করে নয়ারহাট গণবিদ্যাপীট উচ্চ বিদ্যালয়ের দু'টি রুমে নিজের ক্রয়কৃত তালা দিয়ে তালাবন্ধ করে মজুদ করে রাখেন। 

পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে স্কুল কতৃপক্ষ মুজদ করে রাখা ত্রাণ সামগ্রীর বিষয়টি সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপাকে জানালে তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হককে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক রাতে স্কুলে গিয়ে দু'টি রুমের তালা খুলে ৪৯ টি শুকনো খাবারের বস্তা ও ৫২ টি চালের প্যাকেট জব্দ করেন। 

পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার্ত ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ গুলো বিতরণের জন্য সেগুলো সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান রেখেছে। সেগুলো তিনি কি কারণে এতদিন বিতরণ করেননি বা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সেগুলো এখনো রেখেছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। 
তার সাথে পাথালিয়া ইউপি সচিব শরিফুলও দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। উৎসুক জনতা স্কুল মাঠে জড়ো হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের কঠোর শাস্তি দাবি করে বলেন, দেশের মানুষ যেখানে ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছেন না সেখানে কিভাবে চেয়ারম্যান আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ত্রাণ সামগ্রী মজুদ করে রেখেছেন। এসময় স্কুল মাঠে ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের ভাইয়ের ছেলে ভাতিজা সোহাগ দলবল নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এবিষয়ে সাভার সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ৭ আগষ্টের মধ্যে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার কথা ছিলো।কিন্তু সেগুলো ইউপি চেয়ারম্যান কেন বিতরণ করেননি। তাকে এ অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তারপর তার বক্তব্যের শুনে আমরা তার বিরুদ্ধে সরকারী ব্যবস্থা নেবো।

সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব বলেন , হতদরিদ্রদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০০ বস্তা চাল ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি করে আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে । 

এবিষয়ে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান মুঠোফোনে সাংবাদিকদেড় বলেন, এ ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রীর কার্ড পাওয়া অনেক লোকজন নানা সমস্যার কারণে ত্রাণ সামগ্রী গুলো নিয়ে যায়নি। সেজন্য সেগুলো সেখানে মজুদ করে রাখা হয়েছে। আর যে দুটি রুমে ত্রাণ সামগ্রী মজুদ করে রাখা হয়েছে সেই রুম থেকে আমরা সারাবছর ত্রাণ সামগ্রী বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করি আর কোন উদ্দেশ্যে নয় বলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর