শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:২১
প্রিন্ট করুন printer

উদ্বোধনের ১৪ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

উদ্বোধনের ১৪ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ২০ শয্যা হাসপাতাল শুধু নামেই রয়েছে। ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ১৪ বছর আগে উদ্বোধনের সময় যেভাবে আনা হয়েছিল, এখনও সেভাবেই রয়েছে। ধুলাবালির স্তুপ পড়েছে সেগুলোর ওপর। নেই কোনও নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ।

হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোন কাজে আসছে না। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমেছে। ঘুনপোঁকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট। ঠিকমতো নজরদারি না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯ কিলোমিটার দূরে বিজরুল বাজারে অবস্থিত। উপজেলা সদরে কোনও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহরসহ আশেপাশের বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং শিশুরা বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছিল। এ কারণে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।

এ দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিগত বিএনপি সরকার আমলে উপজেলা সদরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষণ ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুসঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের তারেক রহমান হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সাংসদ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাসজুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজিয়েছে। এর ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ঠ হতে চলেছে।

নন্দীগ্রাম ২০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটক ও স্টোর রুম ছাড়া সব কক্ষে তালা ঝুলছে। হাসপাতালের একটি কক্ষে চলছে বহির্বিভাগের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার উম্মে হাসনা বানু জানান, ‘প্রতিদিন এখানে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোনও সেবা দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, ‘জনবলের অভাবে ওই হাসপাতালটি পুর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনও সরকারিভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। ইতিমধ্যেই একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন তৈরি করছে। অচিরেই সেই প্রতিবেদনের আলোকে তারা হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর